মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
Logo
×

ঝিনাইদহে বিএনপি নেতার ভাতিজা সনেটের বিরুদ্ধে মার্কেট দখলের অভিযোগ

Icon প্রথম সমাচার ডেস্ক

পরে মার্কেটের ১৫টি দোকান দখলের অভিযোগ নিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মালিক আছাদুজ্জামান মিন্টু। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১০ সেপ্টেম্বর সনেটের নামে দেওয়া ওই জমির বরাদ্দ বাতিল করেন বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা।

বরাদ্দ বাতিলের নোটিশে উল্লেখ করা হয়, রেলভূমির বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়ে সনেট ৬০০ বর্গফুট জমির বাণিজ্যিক রাজস্ব প্রদান বা ক্ষতিপূরণের নোটিশ সংগ্রহ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে ওই জায়গায় তার কোনো দখল বা স্থাপনা নেই বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

মৃধা শাহাজাহান প্লাজার এক দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আসাদুর জামান সনেট এই মার্কেটের ভাড়াটিয়া। সেও আমাদের মতো একটি দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করে। কিন্তু গত সেপ্টেম্বর মাসে শুনি, সে ১৫টি দোকানের মালিক হয়ে গেছে। এখন থেকে সনেটের কাছে ভাড়া দিতে হবে, নাহলে দোকান ছেড়ে দিতে হবে। এই ভয়ে তার কাছে সেপ্টেম্বর মাসের ভাড়া দিয়েছি।

মার্কেটের মালিক আছাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে নানাভাবে মার্কেট দখল করার চেষ্টা করেছে আসাদুর জামান সনেট। তিনি আমার মার্কেটের ভাড়াটিয়া। এ বছরের জুন থেকে সে দোকান ভাড়া দেয় না। আমার সব কাগজপত্র বৈধ। রেলওয়ের জায়গায় নির্মিত আছে ছয়টি দোকান। কিন্তু তিনি আমার পৈতৃক জমিতে নির্মাণ করা আরও নয়টিসহ ১৫টি দোকান দখল করে ভাড়া তুলছেন। তার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সে আমাকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছে। মোটা অঙ্কের চাঁদা না দেওয়ায় আমার মার্কেটের ১৫টি দোকান দখল করেছে। চাচা বিএনপি নেতা হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে সে আমার মার্কেট দখল করেছে। আমার স্থাপনা দখল করে নাম দিয়েছে আসাদুর জামান প্লাজা। এ ঘটনায় গত ২০ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহ আদালতে মামলা করেছি। আদালত ১৪৪ ধারা জারি করে নির্দেশ দিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে সনেটকে বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। বরং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা ও চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি ছিল। এ সংক্রান্ত ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

বিএনপি সরকার গঠনের পর সনেটের বিরুদ্ধে মার্কেট দখলের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের একটি পরিত্যক্ত ভবনের অর্ধেক দখলের অভিযোগও উঠেছে। তার কর্মকাণ্ডে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশ ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে আসাদুর জামান সনেট বলেন, ‘রেলওয়ের কাছ থেকে বাতিল হওয়ার কোনো নোটিশ অফিশিয়ালভাবে আমি পাইনি। আমি ওই মার্কেটের মালিকানা জায়গার এখনো ভাড়াটিয়া। গত সেপ্টেম্বর মাসে ১৩টি দোকানের ভাড়া তুলেছি। এগুলো কোনো পৈতৃক জমিতে না।’

অন্যের স্থাপনা দখল করে ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্থাপনা নির্মাণের খরচ দেওয়ার জন্য আমি যোগাযোগ করেছি, কিন্তু সে দেখা করে না।’

সনেটের চাচা ও কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘মার্কেটের মালিকের কাগজপত্র বৈধ না। বিগত ১০ বছর তিনি জমির খাজনা দেন না। এরপর ভাইপো সনেট রেলওয়ের কাছ থেকে ডিসিআর নিয়ে এসেছে।’

অন্যের স্থাপনা দখল করে ভাড়া আদায় করা যায় কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘স্থাপনা ভাঙার কাজ চলছে।’

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেন, ‘যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিএনপির কেউ না। যার মার্কেট দখল করেছে, তিনি যদি আইনের সহযোগিতা নেন এবং কাগজপত্র সঠিক থাকে, অবশ্যই তাঁর পক্ষে আমার অবস্থান থাকবে। বিএনপিতে কোনো চাঁদাবাজ, দখলবাজ, মাদক ব্যবসায়ীর জায়গা হবে না।’

তিনি আরও জানান, বিষয়টি জানার পর ভুক্তভোগীকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন।

আরও খবর লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

« বিস্তারিত কমেন্টে »
prothomsomachar.com