বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
Logo
×

বঞ্চিত করা হয়েছে সাইফ হাসানকে!

প্রথম সমাচার ডেস্ক ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ন

বিসিবির এডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল খান বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়কদের ক্যাপ্টেনস কার্ড দিয়েছেন, যাতে বেশ কিছু সুবিধা থাকছে। যারা ক্যাপ্টেনস কার্ড এর আওতায় এসেছেন তাদের মধ্যে কয়েকজন আছে যারা বাংলাদেশ জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন কিন্তু আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেননি তারা। ১৯৭৭ সালের প্রথম অধিনায়ক জনাব শামিম কবির থেকে শুরু করে ১৯৮৬ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার আগ পর্যন্ত সেখানে কয়েকজন অধিনায়ক আছেন এবং পরবর্তীতে সকলেই আছেন। যেহেতু আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলার পরও শামিম কবিরদের কার্ড দেওয়া হয়েছে, সেহেতু এটি স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়কদের সম্মানিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ম্যাচ বাধ্যতামূলক নয়।

অপরদিকে সাইফ হাসান ২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ দলকে ৩ ম্যাচ নেতৃত্ব দিয়েছেন, ২ ম্যাচে জয় আছে। যেগুলোর ছিলো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এই স্বীকৃতি হঠাৎ করে নেয়, আগে থেকেই আইসিসি জানিয়ে দিয়েছিল অংশগ্রহণকারী যে দলগুলোর টি২০ মর্যাদা আছে, তাদের ম্যাচগুলো আন্তর্জাতিক ম্যাচ হবে। সেই বাংলাদেশ দলটি জাতীয় দল ছিলো না, তাই জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার তকমা পাচ্ছেন না সাইফ হাসান এবং এ সূত্রেই তিনি কার্ড পাননি ধারণা করা হচ্ছে।

কথা হলো, একটি দেশ যখন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা শুরু করে, তারপর জাতীয় দল বলতে আসে কি বুঝায়, আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলাটাই কি বাংলাদেশের খেলা হিসেবে গণ্য হবে না? মূল জাতীয় দলকে পাঠানো না পাঠানো সেটা তো বোর্ডের ব্যাপার। ২য়, ৩য় সারির দল নিয়ে তো অনেক দেশই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে এবং তারা দেশের অধিনায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়। অস্ট্রেলিয়া এবং শ্রীলংকা একই সময়ে দুইটি দল গঠন করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। সম্ভবত টেস্ট ও টি২০ সিরিজ। তাহলে তাদের কোনটা জাতীয় দল? দুটোই নয় কি? অবশ্যই ভিন্ন ২ জন অধিনায়ক দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন একই সময়ে, এখন এখান থেকে কি একজন অধিনায়ককে জাতীয় দলের অধিনায়ক নয়, সেটা বলা যাবে? বরং আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলাটাই কি এখন জাতীয় দল হওয়ার জন্য যথেষ্ট মানদন্ড নয়? আমার তো এটিই মনে হয়। আপনি কোন সিরিজে, কোন টুর্নামেন্টে কাকে পাঠাবেন, সেটি আপনার ব্যাপার, কিন্তু কমন বিষয় হলো এটি স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং প্লেয়াররা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা। যে যেখানেই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলুক, সেটাই বাংলাদেশের পক্ষে এবং এটিই জাতীয় দল। ভারত ছোট দলগুলোর বিপক্ষে ২য় সারির দল পাঠায়, তাই বলে কি সেগুলোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থাকে না? নাকি দেশের অধিনায়ক হিসেবে তাদেরকে মানা হয় না?

সাইফের নেতৃত্ব দেয়া তিন ম্যাচ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচের সাথে অন্তর্র্ভূক্ত হয়েছে এবং জয় পরাজয় হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়কদের তালিকায়ও সাইফ হাসানের নাম আছে। তাহলে তাকে বাদ দেওয়া হলো কোন যুক্তিতে?

ক্রিকেটের রেকর্ড সংরক্ষণকারী ক্রিকইনফোর বাংলাদেশের রেকর্ড এর তালিকায় সাইফের নাম আছে অধিনায়ক হিসেবে। সেটি মোসাদ্দেক হোসেনের পরে ও নাজমুল শান্তর আগে। যেহেতু আইসিসি স্বীকৃত টি২০ ম্যাচগুলো, আইসিসির তালিকায়ও সাইফ হাসান অধিনায়ক। এখন তাহলে সাইফ কেন দেশকে নেতৃত্ব দিয়েও মর্যাদা পাবেন না, এটা কি ইগো সমস্যা বোর্ডের নাকি অজ্ঞতা নাকি স্বাভাবিক? কোনটা?

বাংলাদেশের সেই দলটিতে ৯/১০ জন ক্রিকেটার ছিলো জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। এর বাহিরে নাহিদ রানা, রিপন মন্ডল ও হাসান মুরাদও ছিলো। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে কিন্তু জাতীয় দলে খেলা হয়নি, এই বিষয়টা সাংঘর্ষিক নয় কি? আন্তর্জাতিক ম্যাচ মানেই দেশে দেশের খেলা, ক্লাবের সাথে নয়। দেশে দেশে খেলার যে ম্যাচগুলো আন্তর্জাতিক মর্যাদার, সেই ম্যাচগুলোতে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছে ক্রিকেটাররা। অধিনায়কও দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছে, তাহলে তার স্বীকৃতি থাকবে না কেন। সাইফের উপর কি তাই বৈষম্য করা হয়নি, সাইফকে কি বঞ্চিত করা হয়নি?

সাইফ যদি ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে আবারো নেতৃত্ব দেয়, তাহলে তার অধিনায়কত্বের ম্যাচ সংখ্যা ৪র্থ থেকেই শুরু হবে ১ম থেকে নয়। তাছাড়া দেশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নেতৃত্ব দেওয়ার গৌরবে অবজ্ঞা করে জাতীয় দল থিওরি আনা, এটা কেমন বিষয়? দেশ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা শুরুর পর জাতীয় দল ফর্মুলার চেয়েও আন্তর্জাতিক ম্যাচের স্বীকৃতিই বড় বিষয় নয় কি? জাতীয় দলের পরিধি কি? আমরা জানি যে, কোন না কোন সিরিজে মূল জাতীয় দল পাঠানো হয় না, যেমন বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের মূল দল আসেনি বাংলাদেশে। তাদেরকে মূল জাতীয় দল নয়, বলা যাবে বড়জোর, এটা আনফিসিয়াল ভাষা কিন্তু অফিসিয়াল ভাষা হলো তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে এসেছে। এটাই মূল পরিচয়। অফিসিয়ালী ১ম, ২য়, ৩য় সারির বলে কিছু নেই এখানে। আইসিসির কাছে অফিসিয়াল সিস্টেম হলো আন্তর্জাতিক, লিষ্ট এ, টি২০ ও যুব আন্তর্জাতিক। কিছু ম্যাচ আনঅফিসিয়ালও হয়। এই সবগুলোর মধ্যে মূল হলো আন্তর্জাতিক, এটাই শেষ কথা। কারা খেললো, সেটা বিষয় নয়।

সাইফ হাসান আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং যেখানে একঝাক জাতীয় দলের প্লেয়ার ছিলো। দেশকে আন্তর্জাতিক ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়াটাই কি দেশের অধিনায়ক হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়?। জাতীয় দল বা এ বি দল, দেশকে আন্তর্জাতিক ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়াটাই বড় ব্যাপার। যারাই খেলুক, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা ও নেতৃত্ব দেওয়াই কি শেষ কথা নয়। এই সূত্রে সাইফ হাসানকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেই আমার বিশ্বাস।

জুবায়ের আহমেদ
ক্রীড়া লেখক ও আলোচক

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...