সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
Logo
×

আমি দেশে ফিরব, কোর্টে যাব, মামলা লড়ব কিন্তু আমার নিরাপত্তা তো দিতে হবে

ক্রিকেট সমাচার ০৩ মে ২০২৬, ০১:৫৭ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান দেশে ফেরার তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে ফেরার পথে একটাই শর্ত — নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।

সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার স্পষ্ট জানিয়েছেন, হয়রানিমুক্ত থাকার নিশ্চয়তা পেলে তিনি পরের দিনই দেশে পা রাখবেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে প্রায় দুই বছর ধরে দেশের বাইরে রয়েছেন সাকিব।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। সরকার পতনের পর তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক আইনি অভিযোগ দায়ের হয়। রাজধানীর আদাবর থানায় করা একটি হত্যা মামলায় তাকে ২৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

এছাড়া চেক প্রতারণা ও শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির অভিযোগেও মামলা রয়েছে। সেই থেকে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন তিনি।

সাকিব বলেছেন, “আমি দেশে ফিরব, কোর্টে যাব, মামলা লড়ব। কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমার নিরাপত্তা তো দিতে হবে।”। তিনি কোনো বিশেষ সুবিধা চাইছেন না, চান না রাস্তা বন্ধ করে বা পুলিশ পাহারায় চলাফেরার ব্যবস্থা।

শুধু চাইছেন একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে ন্যূনতম যে অধিকার পাওয়ার কথা — আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে হয়রানি না করার নিশ্চয়তা। তার মতে, এতটুকু আশা একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে করাটা অস্বাভাবিক নয়।

মামলাগুলোর আইনি ভিত্তি সম্পর্কে সাকিব নিজেই সন্দিহান। তিনি মনে করেন এসব অভিযোগের ভিত্তি তেমন শক্তিশালী নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। সবকিছু মিলিয়ে আশাবাদী থাকার চেষ্টা করছেন তিনি এবং ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সব সমস্যার সমাধান হবে বলে প্রত্যাশা রাখছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিবের সর্বশেষ উপস্থিতি ছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টে। এরপর থেকে আর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামেননি তিনি।

দেশের মাটিতে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছা আগেই ব্যক্ত করেছিলেন তিনি, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে সেই স্বপ্ন এখনো অধরা।

বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল সাকিবের দেশে ফেরার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, ক্রিকেটীয় সুযোগ-সুবিধার দরজা সবসময় খোলা এবং আইনি বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নমনীয় মনোভাব নিয়েই ভাবছে। আইনি জটিলতা কেটে গেলে সাকিবকে সাদরে স্বাগত জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সবমিলিয়ে, প্রায় দুই বছরের প্রবাসজীবনের পর সাকিব দেশে ফেরার ব্যাপারে মনে মনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। শুধু অপেক্ষা সেই মুহূর্তের, যখন একজন সাধারণ নাগরিকের ন্যূনতম নিরাপত্তার নিশ্চয়তাটুকু পাওয়া যাবে।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...