সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
Logo
×

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে উত্তেজনায় বাংলাদেশ, শুরু হয়েছে সমর্থকদের প্রস্তুতি

প্রথম সমাচার ডেস্ক ০৯ মে ২০২৬, ০৯:৫৪ অপরাহ্ন

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে ব্যাপক উন্মাদনা। এখনও টুর্নামেন্ট শুরুর বাকি কিছু সময় থাকলেও এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রিয় দলের পতাকা টানানো, জার্সি সংগ্রহ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থন প্রচার এবং বিশ্বকাপ নিয়ে তর্ক-বিতর্কে মেতে উঠেছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বগুড়া ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ আবারও ফিরে এসেছে। চায়ের দোকান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, অফিস কিংবা আড্ডা— সর্বত্র এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ।

আগামী বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে United States, Canada এবং Mexico। ইতিহাসে এই প্রথম তিনটি দেশ একসঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে। এবারের আসর আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে। আগের ৩২ দলের পরিবর্তে এবার অংশ নেবে ৪৮টি দল। ফলে ম্যাচ সংখ্যা, ভেন্যু এবং দর্শক উপস্থিতি— সবদিক থেকেই এটি হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপ।

ফিফার নতুন কাঠামো অনুযায়ী দলগুলোকে একাধিক গ্রুপে ভাগ করা হবে এবং আগের তুলনায় বেশি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এতে এশিয়া, আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর জন্য বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগও বেড়েছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই কাঠামো বিশ্ব ফুটবলে আরও বেশি প্রতিযোগিতা ও বৈচিত্র্য নিয়ে আসবে।

বাংলাদেশে বিশ্বকাপ মানেই এক ধরনের উৎসব। যদিও বাংলাদেশ এখনও বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি, তবুও দেশের কোটি কোটি মানুষ নিজেদের প্রিয় বিদেশি দলকে ঘিরেই আবেগে ভাসেন। বিশেষ করে Lionel Messi–এর আর্জেন্টিনা, Cristiano Ronaldo–এর পর্তুগাল, Brazil national football team, France national football team ও Germany national football team–কে ঘিরে সবচেয়ে বেশি উন্মাদনা দেখা যায়।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের পর বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা সমর্থকের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে ব্রাজিল সমর্থকরাও আশাবাদী, দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার তাদের দল আবারও বিশ্বকাপ জিততে পারে।

বিশ্বকাপ সামনে রেখে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বড় পর্দায় খেলা দেখানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ীরাও ফুটবল জার্সি, পতাকা, ব্যানার ও বিভিন্ন সাজসজ্জার সামগ্রী বিক্রির জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছেন। অনেক এলাকায় সমর্থকদের উদ্যোগে মোটর শোভাযাত্রা, পতাকা মিছিল এবং প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনাও চলছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এখন বিশ্বকাপের আমেজ স্পষ্ট। বিভিন্ন মাধ্যমে দল বিশ্লেষণ, সম্ভাব্য খেলোয়াড় তালিকা এবং ভবিষ্যদ্বাণীমূলক আলোচনা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তরুণদের মধ্যে বিশেষ করে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের অনলাইন বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।

ক্রীড়া সংগঠকরা বলছেন, বিশ্বকাপ শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়; এটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য এক ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবেও পরিণত হয়েছে। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন বাড়ে এবং তরুণদের মধ্যে ফুটবলের প্রতি আগ্রহও বৃদ্ধি পায়।

এদিকে ফিফা জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত ভিডিও সহায়তা পদ্ধতি, নিরাপত্তা ও দর্শকসেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। আয়োজক দেশগুলোতে স্টেডিয়াম উন্নয়ন, পরিবহন ব্যবস্থা ও পর্যটন অবকাঠামো প্রস্তুতের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।

বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও কিছুটা সময় বাকি থাকলেও বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা ইতোমধ্যেই তুঙ্গে উঠেছে। প্রিয় দলের জার্সি গায়ে, পতাকা হাতে এবং স্বপ্নভরা প্রত্যাশা নিয়ে আরেকটি বিশ্বকাপ উৎসবের অপেক্ষায় এখন দেশের কোটি ফুটবলভক্ত।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...