যুদ্ধের টানটান উত্তেজনার মাঝেও অ্যারিজোনার মরুশহর টুকসন এখন বিশ্বকাপের অপেক্ষায় মুখর। ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে যুদ্ধ যখন দ্বাদশ সপ্তাহে গড়িয়েছে, তখনো এই শহরটি আগামী মাসে ইরানি জাতীয় ফুটবল দলের বেস ক্যাম্প হওয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে।
কিনো স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ফিফার নিয়ম মেনে মাঠ প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে হোটেল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দিনরাত কাজ চলছে। কমপ্লেক্সের পরিচালক সারা হান্না জানিয়েছেন যে, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে তাকে নিয়মিত অসংখ্য বৈঠক করতে হচ্ছে।
স্থানীয় ফুটবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, রাজনীতি ও যুদ্ধ যা-ই থাকুক না কেন, খেলাধুলা মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বয়ে আনে।
তবে এই আয়োজনের পেছনে অনিশ্চয়তার ছায়া একেবারে মুছে যায়নি। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরানি খেলোয়াড়দের ভিসা পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ইরানের ফুটবল ফেডারেশন তাদের তারকা খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার পাশাপাশি ভিসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য এবং কানাডার পক্ষ থেকে ইরানি কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার ফলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে।
অবশ্য ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্টিনো শুরু থেকেই অনড় অবস্থানে আছেন যে, খেলাধুলা রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং ইরান অবশ্যই এই আসরে অংশ নেবে।
মাঠের বাইরের এই স্নায়ুযুদ্ধের মধ্যেই ইরানি দল তুরস্কের আন্টালিয়ায় নিজেদের প্রস্তুতি ম্যাচগুলো খেলেছে। দর্শকশূন্য মাঠে নাইজেরিয়ার কাছে পরাজিত হলেও কোস্টারিকার বিপক্ষে বড় জয় দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
গ্রুপ ‘জি’-তে থাকা দলটি আগামী ১০ জুনের মধ্যে টুকসনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে, যার পরবর্তী ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে বেলজিয়াম ও মিসরের বিপক্ষে।
এখন দেখার বিষয়, মাঠের লড়াই যুদ্ধের দামামাকে ছাপিয়ে কতটা সফল হতে পারে।
