সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
Logo
×

এবার তারেক রহমানেকে ইতিহাস বিভাগের ছাত্র দাবি করে স্মৃতিচারণ

প্রথম সমাচার ডেস্ক ১৪ মে ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়” ভর্তির দিনে আমার সাথে সংঘটিত ঘটনার স্মৃতিচারণ শিরোনামে লিখেছেন হাতিয়া কলেজের অদ্যাপক শাহ ওয়ালি উল্লাহ

তিনি বলেন— ১৯৮৫/৮৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাবিতে অনার্সে ভর্তি হওয়ার জন্য ১৯৮৬ সালের জুনের শেষের দিকে কলা ভবনের নিচে সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করা অবস্থায় ডীনের কক্ষের সামনে হঠাৎ কিছু কাগজপত্র পাই। কুড়িয়ে নিয়ে দেখি ভর্তি প্রার্থীর এস.এস.সি এবং এইচ.এস.সির মূল মার্কশিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি।

পড়ে দেখি নাম তারেক রহমান এবং পিতা জিয়াউর রহমান। তখনো আমি কোনভাবেই বুঝতে পারি নাই এগুলো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমানের কাগজপত্র। কিছুক্ষণ পরে দেখলাম একজন হালকা পাতলা সুন্দর ১৮ বছরের যুবক তার হারানো ফাইল খুঁজতে ব্যস্ত।

এমতাবস্থায় আমি ফাইলটি এগিয়ে দিলে স্বানন্দে আমার থেকে গ্রহণ করেন এবং আমাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তখনই তার চেহারার সাথে মিল পেলাম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে। আমাদের ভাইবা বোর্ডে ছিলেন কলা অনুষদের ডীন প্রফেসর ডক্টর আব্দুল মোমেন চৌধুরী।

যিনি ইতিহাস বিভাগের একজন প্রভাবশালী সুযোগ্য প্রফেসর ছিলেন। ডীন হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করতে দেখেছি। এরশাদের শাসনামলে প্রতিনিয়ত মিছিল-মিটিং, আন্দোলন-সংগ্রাম চলতো। আমরা ৪ জন ভিসি স্যার কে পেয়েছিলাম।

১. প্রফেসর ডক্টর শামছুল হক
২. প্রফেসর ডক্টর আব্দুল মান্নান
৩. প্রফেসর ডক্টর মনিরুজ্জামান মিয়া
৪. প্রফেসর ডক্টর এমাজ উদ্দিন স্যার।

ডাকসুর ভোট ২ বার পেয়েছিলাম। সুলতান মোস্তাক পরিষদ ও আমান খোকন পরিষদ।

মহসিন হলে ছাত্রনেতা বাবলু হত্যা, জিয়া হলের সামনে বেগম খালেদা জিয়ার মিটিং চলাকালীন খবর আসলো পাগলা শহীদ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। তাৎক্ষণিক বেগম খালেদা জিয়া আমাদের সামনে দিয়ে সভার স্থান ত্যাগ করেন। তখন এ রকম ঘটনা ছিল সচরাচর।

ফলে তারেক জিয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করা খুবই কঠিন ছিল। আমান উল্লাহ আমান (ভিপি), আজকের অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল কবি জসিম উদ্দিন হলের ৩২৯ নম্বর রুমে থাকতেন। মরহুম ইলিয়াস আলী প্রায় আমার রুমমেট ওসমান গণির ( সাব রেজিস্টার) সীটে থাকতেন। এসব আজ স্মৃতি।

৫ আগস্ট /২৪ এর কয়েক মাস আগে আমার কলেজে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান, হাতিয়া আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সেক্রেটারি এবং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মহোদয় কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে অনেকের সামনে বলেছিলেন তারেক জিয়া ইন্টার শেষ করতে পারেনি। তার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখা হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়।

ঐ মুহুর্তে এমন কথার প্রতিবাদ ছিল বড্ড বেমানান ও অপরাধ। তবু নিজকে সংবরণ করতে না পেরে বলেছিলাম তারেক জিয়ার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ইতিহাস।

যা পরবর্তীতে ভাইরা ভাই মাওলানা খসরুর ছেলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক কারিমুল হাই নাইম সহ বিশ্বস্ত অনেকের কাছে বিষয়টি বলেছিলাম। তারেক জিয়া ঢাবিতে ভর্তি হয়েছিল। বাট অনার্স শেষ করেছে কিনা জানা নেই। জনাব তারেক জিয়া আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনা ওনার স্মরণে আছে কিনা জানি না।

আশা করি আমার এই স্মৃতিচারণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সম্পর্কে পাঠকের কিছু তথ্য পেতে সহায়ক হবে।

স্মৃতিচারণে
মোঃ শাহ ওয়ালী উল্লাহ
সহ: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
হাতিয়া কলেজ, নোয়াখালী।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...