পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন শেষে লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরির ওপর ভর করে লড়াইয়ে টিকে রয়েছে বাংলাদেশ দল। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ দল প্রথম ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৭৮ রান সংগ্রহ করেছে। টপ-অর্ডারের চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর লিটন দাসের একক নৈপুণ্য ও বীরত্বগাথা ইনিংসের ওপর ভর করেই মূলত বাংলাদেশ একটি সম্মানজনক পুঁজি গড়তে সক্ষম হয়, যা ম্যাচটিতে দর্শকদের দারুণ রোমাঞ্চের খোরাক জুগিয়েছে।
এর আগে ম্যাচের শুরুতে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় পাকিস্তান। সবুজ উইকেটের সুবিধা নিয়ে শুরুতেই স্বাগতিক শিবিরের ওপর চেপে বসেন পাকিস্তানি বোলাররা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই মাহমুদুল হাসান জয় খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন। এরপর তানজিদ হাসান (২৬), মোমিনুল হক (২২) এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর (২৯) কেউই নিজেদের ইনিংসকে বড় করতে পারেননি। মাত্র ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন চরম কোণঠাসা, তখন দলের হাল ধরেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাস।
উইকেটে এসে পাকিস্তানি পেস ও স্পিন আক্রমণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান লিটন দাস। লোয়ার-অর্ডারের ব্যাটারদের সাথে নিয়ে ক্রমান্বয়ে দলের রান এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। চাপের মুখে স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শৈলী প্রদর্শন করে তিনি তুলে নেন এক দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত দলীয় ২৭৮ রানে আউট হওয়ার আগে তিনি খেলে যান ১২৬ রানের এক অতিমানবীয় ইনিংস, যা ধসে পড়া বাংলাদেশকে একাই টেনে তোলেন। শেষদিকে শরিফুল ইসলামের অপরাজিত ১২ রানও দলকে আড়াইশ পার করতে সাহায্য করে।
অন্যদিকের বোলিং চিত্রে পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন খুররম শাহজাদ, যিনি ৬৫ রানের বিনিময়ে ৪টি উইকেট নেন। এছাড়া অভিজ্ঞ মোহাম্মদ আব্বাস ৩টি এবং হাসান আলী ২টি উইকেট শিকার করে বাংলাদেশের ইনিংসে বড়সড় ধাক্কা দেন। প্রথম দিনের খেলা শেষে বলা যায়, ম্যাচটি এখন বেশ চমৎকার একটি ভারসাম্যের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। আগামীকাল ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে লিটনের এই লড়াকু পুঁজিকে সামনে রেখে পাকিস্তানি ব্যাটারদের দ্রুত চেপে ধরাই হবে বাংলাদেশী বোলারদের মূল লক্ষ্য।
