চীন বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু উল্লেখ করে শিনজিয়াং পররাষ্ট্র দপ্তরের উপমহাপরিচালক জিয়াং ইয়েন বলেছেন, আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায় বেইজিং। ব্যবসা, বাণিজ্য, অবকাঠামো, কৃষি ও পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সম্প্রতি চীন সফরে যাওয়া বাংলাদেশি মিডিয়া ডেলিগেশনের সম্মানে আয়োজিত ব্যাংকোয়েট ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জিয়াং ইয়েন বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু। চীন বাংলাদেশের প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। দুই দেশের জনগণের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। ভবিষ্যতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করি।”
তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো স্থিতিশীলতা। “স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে চাই,” যোগ করেন তিনি।
শিনজিয়াং প্রদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই কূটনীতিক বলেন, একসময় পিছিয়ে পড়া অঞ্চল হিসেবে পরিচিত শিনজিয়াং এখন বাণিজ্য, শিল্প, কৃষি ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ চাইলে শিনজিয়াংয়ের অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হতে পারে এবং এ ক্ষেত্রে চীন সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
শিনজিয়াংয়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে অঞ্চলটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ। ২০২৫ সালে তিন কোটিরও বেশি বিদেশি পর্যটক শিনজিয়াং সফর করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ও উইঘুর মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে জিয়াং ইয়েন বলেন, ধর্ম পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে এবং এ বিষয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচার করা হয়। তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা ও আধুনিক ব্যবস্থার সমন্বয়ে একটি কাঠামোগত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের “ডালিমের বীজের মতো জাতিগত ঐক্য” ধারণার কথা উল্লেখ করে বলেন, শিনজিয়াংয়ে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী পারস্পরিক ঐক্যের ভিত্তিতে বসবাস করছে।
উরুমচির শিনজিয়াং ইসলামিক ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষক বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ধর্মচর্চার স্বাধীনতা রয়েছে এবং আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি কোরআন, হাদিস, শরিয়াহ আইন, আরবি ভাষার পাশাপাশি ম্যান্ডারিন ও উইঘুর ভাষাও শিক্ষা দিয়ে থাকে।
বাংলাদেশি সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিনজিয়াং সফরে অঞ্চলটির উন্নয়ন কার্যক্রম, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং অবকাঠামোগত অগ্রগতি সরেজমিনে পরিলক্ষিত হয়েছে।
২০২৫ সালে শিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে বিশেষ আয়োজন ও প্রদর্শনী চলছে। কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং নগর ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল সেবার বিস্তৃত ব্যবহারও লক্ষ্য করা গেছে।
উরুমচি শহরে একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিক সেবা প্রদান ব্যবস্থাও চালু রয়েছে, যা দ্রুত সমস্যার সমাধানে সহায়তা করছে বলে জানা যায়।
