বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
Logo
×

তিয়েনআনমেন স্কয়ারের রক্তঝরা ঘটনা: কেন জানে না চীনের নতুন প্রজন্ম?

প্রথম সমাচার ডেস্ক ০৪ জুন ২০২৬, ১১:০২ পূর্বাহ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ১৯৮৯ সালের ৪ জুন। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলনরত নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর সামরিক বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। নির্বিচার সেই গুলির ঘটনায় ঝরে পড়েছিল শত শত প্রাণ। আজ ৪ জুন, সেই নৃশংস ঘটনার ৩৭তম বার্ষিকী। অথচ বিস্ময়করভাবে, চীনের বর্তমান তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ এই ঘটনা সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানে না।

ইতিহাসের সেই ভয়াবহ দিন: ১৯৮৯ সালে চীন ছিল অস্থির। রাজনীতি ও অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবিতে বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে জড়ো হয়েছিল হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। তবে তাদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সহ্য করেনি তৎকালীন চীনা কর্তৃপক্ষ। ৪ জুন প্রথম প্রহরেই সামরিক বাহিনী ট্যাঙ্ক ও অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের দমনে নামে। চোখের পলকে তিয়েনআনমেন স্কয়ার পরিণত হয় বধ্যভূমিতে।

কেন অন্ধকারে নতুন প্রজন্ম? গত ৩৭ বছরে চীন অত্যন্ত সুকৌশলে এই কলঙ্কিত অধ্যায়টিকে জনস্মৃতি থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। এর পেছনে কাজ করছে রাষ্ট্রীয় কঠোর সেন্সরশিপ:

  • পাঠ্যপুস্তকে অনুপস্থিতি: দেশটির স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যবইগুলোতে ১৯৮৯ সালের সেই ঘটনার কোনো উল্লেখই নেই।

  • অনলাইন সেন্সরশিপ: চীনের অভ্যন্তরীণ সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে ‘তিয়েনআনমেন স্কয়ার’ বা ‘জুন ফোর্থ’ লিখে সার্চ করলে কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

  • ভয়ের সংস্কৃতি: আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে আলোচনা নিষিদ্ধ করা না হলেও, প্রকাশ্যে এ নিয়ে কথা বললে জেল, চাকরিচ্যুতি কিংবা নিখোঁজ হওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। ফলে সাধারণ মানুষ বা তরুণরা নিজের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই আলোচনা এড়িয়ে চলে।

বিশ্ব বনাম চীন: এবিসি নিউজের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেইজিংয়ের অনেক শিক্ষার্থীর কাছে তিয়েনআনমেন স্কয়ারের সেই রক্তক্ষয়ী দিনটি কেবলই ‘জুন ফোর্থ’ নামে পরিচিত, যেখানে কিছু শিক্ষার্থী ‘দাঙ্গা’ করেছিল বলে তাদের শেখানো হয়। এমনকি বিশ্বখ্যাত ‘ট্যাংকম্যান’-এর (নিঃসঙ্গ এক আন্দোলনকারীর ট্যাঙ্কের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার ছবি) ছবিটির সঙ্গেও পরিচিত নয় দেশটির নতুন প্রজন্ম।

চীনে ইন্টারনেটে কোনো কিছু সার্চ করার ক্ষেত্রেও কঠোর নজরদারি থাকে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিটি অ্যাকাউন্ট নাগরিক পরিচয়পত্রের সঙ্গে যুক্ত। ফলে রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপ ও নজরদারির বেড়াজালে তিয়েনআনমেন স্কয়ারের সেই বিভীষিকাময় ইতিহাস চীনের তরুণ প্রজন্মের কাছে আজও এক রহস্যময় ও অজানিত অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...