মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ বুধবার ২১৫-২০৮ ভোটে একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাব পাস করেছে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষমতাকে সীমিত করতে চায়। চারজন রিপাবলিকান প্রতিনিধি দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একজোট হয়ে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন।
নিউ ইয়র্কের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকসের উত্থাপিত এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না করলে বা সামরিক বল প্রয়োগের সুনির্দিষ্ট অনুমতি না দিলে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত থেকে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে সরিয়ে নিতে হবে।
দলীয় সিদ্ধান্তের বিপরীতে যাওয়া চার রিপাবলিকান হলেন পেনসিলভানিয়ার ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, কেন্টাকির টমাস ম্যাসি, মিশিগানের টম ব্যারেট এবং ওহাইওর ওয়ারেন ডেভিডসন।
প্রস্তাবের পটভূমিতে রয়েছে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে মার্কিন হামলার ঘটনা। ট্রাম্প কংগ্রেসের কোনো অনুমোদন ছাড়াই সেই অভিযান শুরু করেন এবং বিষয়টিকে “সংঘাত” বা “স্বল্পমেয়াদি অভিযান” বলে আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
তবে সেই যুদ্ধ এখনও চলমান এবং শনিবার তা ১০০তম দিনে পৌঁছাবে। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইরানে ৩,৪০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং কমপক্ষে ১৩ জন মার্কিন সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন। সংঘাত পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
আইনি দিক থেকে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ৬০ দিন এবং আরও ৩০ দিন বর্ধিত সময় পর্যন্ত সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারেন। সেই মেয়াদ মে মাসের গোড়ায় পেরিয়ে গেছে।
প্রতিনিধি ফিটজপ্যাট্রিক ভোটের পর সাংবাদিকদের বলেন, আইন মানতে হবে — ৬০ দিন পেরিয়ে গেছে, এখন দুটো পথ, হয় আইন মানো, নয়তো আইন বদলাও; আইন লঙ্ঘন করা কোনো বিকল্প নয়।
এটি এই বছরে ইরান প্রশ্নে হাউসে চতুর্থ যুদ্ধ ক্ষমতা ভোট। এর আগে মে মাসের শেষে একবার ভোটের সময় নির্ধারিত হলেও রিপাবলিকান নেতৃত্ব হঠাৎ সদস্যদের মেমোরিয়াল ডে ছুটিতে পাঠিয়ে দেন, কারণ মনে হচ্ছিল পর্যাপ্ত রিপাবলিকান সমর্থনের অভাবে প্রস্তাবটি পাস হয়ে যেতে পারে। তবে ছুটির পরেও রিপাবলিকান অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং অবশেষে প্রস্তাবটি পাস হয়।
হাউস স্পিকার মাইক জনসন অবশ্য ট্রাম্পের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, ইরান ৪৭ বছর আগে আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল এবং এখনও “আমেরিকার মৃত্যু হোক” বলে স্লোগান দেয়। তাঁর মতে প্রেসিডেন্ট কেবল জনগণকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছেন।
প্রস্তাবটি এখন সিনেটে যাবে, যেখানে মে মাসেই একটি অনুরূপ প্রস্তাব পাস হয়েছে। তবে চূড়ান্ত বাধা হলো ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা। তাঁর ভেটো অতিক্রম করতে উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, যা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অর্জন করা কার্যত অসম্ভব।
ফলে প্রস্তাবটি মূলত প্রতীকী হলেও এটি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অভূতপূর্ব প্রতিবাদের বার্তা বহন করছে এবং মার্কিন সংবিধানে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে রাখার দাবিকে নতুন করে সামনে এনেছে।
আল-জাজিরা
