চলতি বছরের হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশকে আগামী হজ মৌসুমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর করেছে সৌদি আরব। সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রোডম্যাপ তুলে দেন।
এ সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় কার্যক্রম এবং হাজীদের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। তারা চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ হজ মিশনের কার্যক্রমকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেন।
জানা গেছে, হজ ২০২৭ রোডম্যাপে ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কৌশলগত পরিকল্পনা, পরিচালনাগত নির্দেশনা, সেবার মানোন্নয়ন এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ ও সেবার মান আরও উন্নত করার সুযোগ তৈরি হবে।
সৌদি আরব সফরকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ দেশটির হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ড. আব্দুল ফাত্তাহ বিন সুলায়মান মাশাতের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়া সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহর সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা চলতি হজ মৌসুমের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি হাজীদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষভাবে আবাসন, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল সুবিধা, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, লাগেজ পরিবহন এবং হাজীদের সামগ্রিক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
সৌদি কর্মকর্তারা বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশ হজ মিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ হজ কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী সৌদি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম, সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার ফলে বাংলাদেশি হাজীরা নির্বিঘ্নে হজ পালন করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি ভবিষ্যতেও হাজীদের কল্যাণে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হজ মৌসুমজুড়ে সার্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং হাজীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হজ ২০২৭ রোডম্যাপ হস্তান্তর এবং দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ভবিষ্যতে হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও হাজীবান্ধব করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
