বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Logo
×

বলিউডি বড়ফুপা

প্রথম সমাচার ডেস্ক ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৮ অপরাহ্ন

মিডটার্ম পরীক্ষার আগে সবাই সেমিনারে বইসা পড়তে পড়তে শহীদ হইয়া যাইতেছিল আর অদেরে দেইখা আমার মাথা হইয়া যাইতেছিল গরম। তাই সেমিনার থাইকা বাইর হইয়া টেরাসে গেলাম আমি। রইদ বাড়লে টেরাসে পোলাপান কম থাকে। একদিকে একটু ছায়া পাইয়া সেখানে ল্যাটা মাইরা বইসা ফোনে ফেসবুক খুলতেই দেখলাম বড়ফুপা ইন্তেকাল করছেন। আমার বোনেরা আমাদের বড়ফুপার নাম দিছিল ‘বলিউডি বড়ফুপা’। মেজআপুর মতে বড়ফুপা আপাদমস্তক বলিউডি লোক, উনার সাজপোশাক কথাবার্তা সবই হিন্দি সিনেমার হিরোদের মতন, মানে ছিল আর কী। আপুরা বলে ফুপা নাকি ইয়াং বয়সে সেই পোসপাস আছিল, কাছে গেলেই কোলনের সুগন্ধ পাওয়া যাইত। মমেসিং শহরের প্যাকওয়ালা রাস্তায় ঋষি কাপুরের মতন সাদা প্যান্ট সাদা জুতা পিন্দা হাঁটার গাটস নাকি স্বাভাবিক মানুষের থাকে না।পোস্টটা দিছে ফুপাদের পাশের বাসার এক আপু, আমাদের ভার্সিটিতেই মাস্টার্সে পড়ে। লিখছে, ‘আমাদের অতিপ্রিয় মোহাম্মদ আলী চাচা গতকাল রাতে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহির রাজিউন। এখন আর আসা-যাওয়ার পথে চাচার সহৃদয় হাসিটা দেখতে পাব না। আপনারা চাচার জন্য দোয়া করবেন।’ প্রথমে আমি বুঝতে পারি নাই মোহাম্মদ আলী চাচা লোকটা কে। পোস্টে এলাকার স্থানীয়দের কমেন্ট দেইখা বুঝলাম, এইটা আমার বলিউডি বড়ফুপা। জানাজার নামাজ বাদ জোহর, মানে দেড়টা থাইকা দুইটার মধ্যে। এখন বাজতেছে সাড়ে এগারোটা। চাইলে গিয়া জানাজা ধরা যায়, কিন্তু মিডটার্মটা আর ধরা যাবে না।যদিও বড়ফুপার বাড়ি আমাদের পাড়ার ঠিক পাশের পাড়ায়ই, উনাদের সঙ্গে আমাদের পারিবারিক কিছু ঝামেলা থাকায় মেলাদিন যোগাযোগ নাই। আমি ফুপারে লাস্ট দেখছি বছর দুয়েক আগে, পূরবী সিনেমা হলের উল্টা দিকের দোকানে বইসা চা খাইতেছিলেন কয়েক মুরব্বির লগে। আমারে দেইখা ডাইকা কইলেন, ‘কীরে? কীরম আছস? তোর আব্বা আম্মা কীরম আছে?’ আমি সামান্য অস্বস্তিতে পইড়া গেছিলাম কারণ ফুপারে না দেখার ভান কইরা চইলা যাওয়ার চেষ্টা করতেছিলাম সালাম-আদাব না দিয়া। উনি ডাকার পরে বাধ্য হইয়া আগায়া সালাম দিছি। শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে যে উনার সম্পর্ক খারাপ হইয়া গেছে তা পাড়াসুদ্ধা হগলেই জানে। কিন্তু পাবলিক প্লেসে শালার ছেলের সঙ্গে স্বাভাবিক কুশলাদি বিনিময় করতেন তিনি। ‘শালার ছেলে’ ভাবতেই আমার হাসি পাইল, মাইনষে কারও উপ্রে ক্ষেপলে গালি দেয় ‘হালার পুত’ কইয়া। অথচ কোনো ব্যাটারই আপন শালার পুতেদের সঙ্গে সম্পর্ক মন্দ থাকে না। ফুপা যখন আমাদের বাসায় আসতেন, আম্মার আর চাচিগর লগে খুবই ফ্লার্ট কইরা কথা কইতেন, এমনকি হিন্দি ছবির গানও গাইতেন… আমার আম্মার ডাকনাম রুবা, ভালো নাম দিলরুবা জাহান। আম্মারে দেখলেই ফুপা একটা হিন্দি গান গাইতেন, ‘ইয়া দিলরুবা ইয়া দিলরুবা’। ফুপা আমাদের বাড়িতে আইলেই জামাই আদর চলত, ভালো ভালো খাবার দাবার উনার সামনে দেওয়া হইত আর শালার বউদের সঙ্গে তুমুল হাসি তামশা করতেন তিনি। আমি তখন ছোট, হালকার উপ্রে ঝাপসা মনে আছে।ছাত্র হিসেবে খুব খারাপ না হইলেও টপারদের মধ্যে নাই আমি। আগের মিডটার্মটা মিস করছিলাম চিকেন পক্সের কারণে, ভ্যালিড রিজন ছিল বইলা স্যার পরে অ্যাসাইনমেন্ট জমা নিতে রাজি হইছিলেন। এখন আবার আত্মীয় মারা যাওয়ার জন্য কনসিডারেশন চাইলে ক্ষেইপা যাইতে পারেন। মা-বাপ কিংবা দাদা-দাদি, নানা-নানি, এমনকি ফুপু হইলেও কওয়া যাইত, কিন্তু বড়ফুপা এমন কোনো ফ্যামিলি মেম্বার না যার জানাজার জন্য পরীক্ষা না দিতে চাওয়া যাইতে পারে। আমি তবুও সিআরদের কাছে গেলাম। আমাদের ক্লাসে দুজন সিআর, একজন ছেলে, আরেকজন মেয়ে। দুজনেই ভালো স্টুডেন্ট, তাই আমার সঙ্গে অত বাক্যালাপ করে না তারা। ফার্স্ট সিমেস্টারের রেজাল্টের পর থাইকাই ভালো ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের সার্কেল বানায় নিছে, আমি সেই বৃত্তের বাইরে। একজন সিআর স্যারের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হইল।আমি যখন ক্লাস সিক্সে বা সেভেনে পড়ি, মানে করোনারও আগে, তখন একটা কাহিনি হইছিল। বড়ফুপার বড় মেয়ের সঙ্গে আমার বড় জ্যাঠার ছোট ছেলে, মানে আমাদের মেজো ভাইয়ার সম্পর্ক ছিল কিন্তু ফুপা তারে নিজের এক বন্ধুর ছেলের সঙ্গে বিয়া দিয়া দিছিলেন। সে বাপের অতি আদরের কন্যা, বাপের মতো নাই বইলা মামাতো ভাইয়ের সঙ্গে ভাইগা বিয়া করার মতন কইলজা উনার ছিল না। সেই আপুর বিয়া পাকা হইতেই আমাদের বাড়িতে একটা আজিব টেনশন শুরু হইছিল। পাকা কথার আগে বড় জেঠু আর মেজো জেঠুরে ফরমালি দাওয়াত দিতে আইছিলেন বড়ফুপা আর বড়ফুপি। বড়ফুপা যেমন বলিউডি, মেজো জেঠিমা আবার টালিউডি। উনার কথাবার্তাও কলকাতার মাইনষের লাহান, জ্যাডাগরে ‘জেঠু’ ডাকা উনিই আমাদেরে শিখাইছিলেন। আপুর পানচিনির পরদিন থাইকা দেখা গেল মেজো ভাইয়া বাসায় খাইতেছে না। বড় জেঠিমা আর মেজো জেঠিমার মধ্যে সদ্ভাব নাই। তাই আম্মার সঙ্গেই বড় জেঠিমা কইতে আইতেন এসব কথা। আমরা আশপাশ থাইকা শুনতে পাইতাম।স্যার পরীক্ষাটা পিছাইতে রাজি হইলেন, এক শর্তে—ক্লাসের কেউ আপত্তি না করলে আড়াইটার বদলে তিনটায় পরীক্ষা নেবেন উনি, আমি জানাজা পইড়া আইসা ধরতে পারি যেন। আসল কঠিন কাজ হইল ক্লাসের পোলাপানরে রাজি করানো। যে ভালো ছাত্রছাত্রীগুলা সেমিনার লাইব্রেরিতে বইসা পড়তেছিল তাদেরে রাজি করাইতে তেমন বেগ পাইতে হবে না, আধা ঘণ্টা বেশি পড়ার টাইম পাইলে অরা আরও খুশি। কিন্তু যারা সাড়ে ৩টার বাসে সিট রাইখা আইছে টিউশনিতে যাওয়ার জন্য, তারা তেড়িবেড়ি করবে। সেমিনারে যাদেরে পাইলাম তাদের সঙ্গে কথা বইলা স্যারকে জানাইতে বারোটা বাইজা গেল। লোকাল বাসে যাইতে যাইতে জোহরের আজান হইয়া যাবে। তারচেয়ে বড় কথা বাসে ফিরলে তিনটার মধ্যে ক্যাম্পাস পৌঁছানো কঠিন। আমি ক্যাম্পাসের এক বড়ভাইরে ফোন করলাম হের বাইক ধার চাওয়ার জন্য। ভাই ফোন ধরল না। আমাদের ব্যাচের আরেক ছেলের বাইক আছে কিন্তু অর কাছে চাওয়া একটু মুশকিল। ফার্স্ট সিমেস্টারে যে ছেড়ির লগে দু-চাইরদিন বিকালে চা খায়া সন্ধ্যায় ঘোরাঘুরি করছিলাম সে এখন সায়েন্স ফ্যাকাল্টির সেই ছ্যাড়ার লগেই প্রেম করে। অদের কারও ফোন নম্বর আমার কাছে নাই। বড়ভাইয়ের হলের দিকে যাইতে যাইতেই সে কলব্যাক করল। কইল, ঢাকা গেছে। আত্মীয়ের জানাজা শুইনা সম্ভবত তার দয়া হইল, রুমে গিয়া তার রুমমেটের কাছ থাইকা চাবি নিয়া যাওয়ার অনুমতি দিল।আমার মেজোভাইয়াও একটা বাইক চালাইত, আমি বাইক চালানো শিখছিলাম তার কাছেই। বাসায় কেউ যদিও জানে না। বড় জেঠু রিটায়ার করার পর বাড়িতেই থাকেন। বাড়ির বাইরের টানা বারান্দায় ইজিচেয়ারে বইসা পত্রিকা পড়েন আর উঠানের সবজিবাগানের পরিচর্যা করেন। কিন্তু মেজো জেঠুর ছোটবাজারে বিজনেস আছে। শহরের যে কোনো রাস্তায় হের লগে দেখা হইয়া যাইতে পারে। বাইক চালাইতে দেখলে নিশ্চয়ই বাড়িত আইনা জুতাইত। মেজো জেঠু আর মেজো জেঠিমার যন্ত্রণায় আমাদের জেনারেশনের জীবন মোটামুটি শ্যাষ। আমাদের কোনো ফ্যামিলি স্ক্যান্ডাল চাউর হইত না মেজো জেঠিমা না থাকলে। বলিউডি বড়ফুপার লগে রঙ-তামশা সেও করত কিন্তু আড়ালে কইত, ‘বড় দুলাভাই অনেক বাড়াবাড়ি করে কিন্তু, এই বয়সে এসব হিন্দি গান গায় কেউ? তাও আবার বাচ্চাদের সামনে!’ সেইদিন বড়ফুপা আমার আম্মারে দেইখা গাইছিলেন, ‘জওয়ানি জানেমন, হাসিন দিলরুবা… শিকারি খুদ ইয়াহা শিকার হো গ্যায়া’। আমার ধারণা উনার জ্বলার কারণ বড়ফুপা আম্মার জন্যেই বেশি গান গাইছেন সবসময়। মেজো জেঠিমার নাম মরিয়ম, এই নামে তো আর বলিউডে গান হয় না।এই পুরানা হলে লিফট নাই। সিঁড়ি বাইয়া চারতলায় উইঠা দেখি রুমে তালা ঝুলতাছে। ভাইয়ের রুমমেটের নম্বর চাওনের লাইগ্যা আবার ফোন করতে গিয়া দেখি ব্যালান্স শেষ। হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়া মনে হইল ভাই অনলাইনে নাই, দুর ছাতা, এ দেখি আমার চেয়েও গরিবস। কী করা যায় ভাবতে ভাবতেই ভাইয়ের রুমমেট আইসা পড়ল। মনে মনে আলহামদুলিল্লাহ কইয়া হেরে পুরা ব্যাপারটা বুঝাইয়া মনে হইল বড়ভাইয়ের লগে কথা না কইয়া চাবি আমারে দিবে না। আমারে রুমের বাইরে খাড়া করায়া রাইখা সে বড়ভাইরে ফোন কইরা নিশ্চিত হইল আমি চাপা মারতেছি না। জুতা খুইলা ঘরে ঢুইকা দেখলাম যে ড্রয়ারে চাবি থাকার কথা সেইখানে নাই। আমার মনটা একটু ভার হইয়া গেল। বাসে গেলেগাই পারতাম, হুদাই বাইকের ধান্ধায় এতখানি টাইম বরবাদ হইল। তড়িঘড়ি জুতা পিন্দা নামার প্রস্তুতি নিতেছি সময় বড়ভাই ফোন করল।‘পাইছস?’‘উপ্রের ড্রয়ারে তো নাই’‘নিচেরগুলিতে দ্যাখ’‘তালা মারা তো’‘ড্রয়ারের চাবি টেবিলের উপ্রে আছে মনে হয়’আবার জুতা খুইলা ঢুকলাম, শেষ চেষ্টা কইরা দেখি, কয় মিনিট আর লাগব? প্রথম যেদিন আমি একলা একলা বাইক চালাইছিলাম, মেজোভাইয়া আমারে পিঠে চাপড় দিয়া কইছিল, ‘ডরাইতাছস নাকি ব্যাডা?’ আমি আসলেই ডরাইতেছিলাম কিন্তু স্বীকার যাই নাই। আইজকা ফার্স্ট টাইম হাইওয়েতে বাইক চালায়া শহরে যাওয়ার সময় অত ডর করতাছে না। টেবিলের ওপর থাইকা ড্রয়ারের চাবি নিয়া দুই নম্বর ড্রয়ারে বাইকের চাবি পাইছি। সেই ড্রয়ারে ভাইয়ের ব্যক্তিগত ডায়রি ছাড়াও ছিল এক প্যাকেট কনডম, আর ভাঁজ কইরা রাখা একটা ব্রেসিয়ার। সম্ভবত সেই জন্যেই তালা মাইরা রাখছে সে ওইটা। আমি আর কিচ্ছু না ধইরা খালি বাইকের চাবি লইয়া আবার ড্রয়ার তালা মাইরা সেই চাবি টেবিলের উপরের বইখাতার চিপায় থুইয়া দৌড়াইয়া বাইর হইয়া আইছি। স্পিড খুব বেশি না তুইলা মোটামুটি সাবধানেই বাইপাস পর্যন্ত পৌঁছায়া গেলাম। কুত্তার মতন জ্যাম লাইগা রইছে বাইপাস মোড়ে। তবুও জোহরের আজানের আগেই পূরবী সিনেমা হলের, মানে আগে যেখানে পূরবী ছিল আর এখন ফাঁকা জায়গা, সেই ডিবি রোডের গলিতে ঢুকতে পারলাম।মসজিদের আশপাশে বাইক রাখার জাগা খুঁজতে গিয়া চারপাশে তাকাইলাম, আমাদের বাড়ির কাউরে দেখতে পাইলাম না।। বড়ফুপারে মনে হয় এখনো মসজিদে আনে নাই। আমি পার্ক না কইরা সোজা চইলা গেলাম ফুপুর বাড়ির দিকে। বাসায় গিয়া কাপড় পাল্টায়া আসার টাইম নাই। ফুপুদের বাড়িটা আগে আমাদের বাড়ির মতন ছিল, সামনের উঠানে বড় বড় আমগাছওয়ালা। সম্পর্ক ভালো ছিল সময় বড়ফুপুর শ্বশুরবাড়ি থাইকা আম পাঠানোও হইত আমাদের বাসায়। এখন সেই বিরাট কম্পাউন্ডের মধ্যে কয়েকটা বড় বড় বিল্ডিং উঠছে। আমি ঠিক জানি না বড়ফুপুরা কোন ফ্ল্যাটে থাকে। লোকজনের পিছে পিছে উইঠা দুই তলার এক ফ্ল্যাটে বড় ফুপুরে পাইলাম। বাইরের ঘরের একটা সোফায় বইসা আছেন, পাশে তার মেয়ে।আমি ফুপুর সোফার সামনে একটা টুল পাইতা বসলাম। জানাজার নামাজ পড়ার চাইতে শোকাহত পরিবারের সঙ্গে থাকাটাই বেশি জরুরি লাগে আমার কাছে। মেজো জেঠিমা ভেতরের ঘর থাইকা আইসা ‘শুদ্ধ ভাষা’য় ফুপুরে কইলেন, ‘আপা আসেন, নামাজটা আদায় করে ফেলেন।’ ফুপু এতক্ষণ চোখ বন্ধ কইরা তসবি টিপতেছিলেন। মেজো জেঠিমার কথা শুইনা চোখ খুইলা আমারে দেইখা কইলেন, ‘ফুপারে দেখছস?’ আমি কইলাম, ‘এই যাইতাছি।’ ফুপু আস্তে আস্তে কইলেন, ‘তর বড়জেঠু আর জেঠিমা আসে নাই।’ আমি কী কমু বুঝতে না পাইরা চুপ কইরা রইলাম, আপুর মুখের দিকেও একবার চাইলাম, সেই মুখে কোনো অভিব্যক্তি নাই। ফুপুই আবার কইলেন, ‘অগরে কইস তর ফুপারে মাফ কইরা দিতে।’ এইবার আপু সামান্য বিরক্ত হইয়া বলল, ‘আম্মা, কারে কী কইতেছ? ও ছোটমানুষ, ওরে এসবের মধ্যে টানার দরকার কী?’ফুপু এবার চোখে আঁচল চাপা দিয়া হু হু কইরা কাইন্দা ফেললেন—‘ফুয়াদ, আমার ফুয়াদ বাবা।’ ফুয়াদ আমার মেজোভাইয়ার নাম। বড়ফুপার মেয়ে লাকি আপুর বিয়ার দিন সে মোটরবাইকে এক্সিডেন্ট কইরা মারা গেছিল। এমনিতে এক্সিডেন্ট মনে হইলেও, আমগর বাড়ির প্রায় সকলেরই ধারণা মেজোভাইয়ার মৃত্যুটা আসলে সুইসাইড ছিল। আমি লাকি আপুর দিকে চাইলাম, তার মুখ ভাবলেশহীন। মাফ তো আসলে লাকি আপুর চাওয়া উচিত—সে কি জানত না সমবয়সী মামাতো ভাইয়ের সঙ্গে প্রেম কোনো পরিবারই মাইনা নেবে না? নাকি সে ভাবছিল তার আব্বা আসলেই বলিউডি? অমরেশ পুরির মতন কঠোর অথরিটারিয়ান প্যাট্রিয়ার্ক বাপ হিন্দি সিনেমায় কইতে পারেন, ‘যা সিমরন যা, জি লে আপনি জিন্দেগি’—বাস্তব জীবনের বাপদের কি আর তা পারার কথা?নামাজে জানাজা শেষে আমি ক্যাম্পাসের দিকে রওয়ানা হইলাম। মেজোভাইয়া আর লাকি আপুর মধ্যে শেষ কী কথাবার্তা হইছিল, বড়ফুপা আদৌ জানতেন কি না যে ফুয়াদ নামের তার এক ‘শালার পুতে’র লগে তার মেয়ের কিছু ছিল, বড় জেঠু আর জেঠিমা ভাইয়ার পাগলামিরে কেমনে নিছিলেন বা তারে কী কইছিলেন সেসব কিছুই আসলে আমার জানা হবে না কখনো। বাইকে স্পিড বাড়াইতে বাড়াইতে মনে হইল, আসলে বড়ফুপা না, মেজোভাইয়াই হয়তো বলিউডি ছিল। সুইসাইড হোক বা এক্সিডেন্ট, প্রেমিকার বিয়ার দিন মইরা যাইতে পারা শুধু ট্র্যাজিক সিনেমার নায়কগর পক্ষেই সম্ভব।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...