চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে। সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের নিজ নিজ ওয়েবসাইটে এই ফল প্রকাশ করা হয়।
বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, পুনঃনিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় মোট ২৭ হাজার ৮৩৬ জন পরীক্ষার্থীর ফলাফলে কোনো না কোনো পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, আগে ফেল করা ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী এবার উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাশাপাশি নতুন করে সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৩ হাজার ৭৯ জন পরীক্ষার্থী।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবারের পুনঃনিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় আগের তুলনায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছিল। আগে শুধু নম্বর যোগে কোনো গরমিল হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হতো। কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো আবেদন করা উত্তরপত্রগুলো নতুন করে পুনর্মূল্যায়নও করা হয়েছে, যার ফলে ফলাফলে ব্যাপক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান আগেই গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, নতুন পদ্ধতির কারণে অতিরিক্ত পরীক্ষক নিয়োগ করতে হয়েছে এবং এর কোনো বিকল্প ছিল না।
এবার পুনঃনিরীক্ষণে আবেদনের সংখ্যাও ছিল রেকর্ড পরিমাণ। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে সব মিলিয়ে ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিলেন। যেহেতু একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারেন, তাই মোট আবেদনের সংখ্যা পরীক্ষার্থীর সংখ্যার চেয়ে বেশি হয়েছে। বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে।
আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা তিনটি মাধ্যমে তাদের সংশোধিত ফল জানতে পারছেন। প্রথমত, নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে; দ্বিতীয়ত, আবেদনের সময় দেওয়া মুঠোফোন নম্বরে পাঠানো খুদে বার্তার মাধ্যমে; এবং তৃতীয়ত, rescrutiny.eduboardresults.gov.bd নামের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে।
প্রতিটি পত্রের পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদনকারীকে ১৫০ টাকা হারে ফি পরিশোধ করতে হয়েছিল।
