মালদ্বীপে কর্মরত এক লাখের বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী বৈধ পথে দেশে কষ্টার্জিত অর্থ পাঠাতে গিয়ে নানা ধরনের আর্থিক জটিলতা ও ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ।
বুধবার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশিরা বেতন পান স্থানীয় মুদ্রা মালদ্বীপীয় রুফিয়ায়। তবে রুফিয়া থেকে সরাসরি বাংলাদেশি টাকায় অর্থ পাঠানোর কার্যকর বৈধ ব্যাংকিং ব্যবস্থা না থাকায় প্রবাসীদের অতিরিক্ত খরচ ও বিনিময়মূল্যজনিত ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে।
হাসনাত আবদুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, মালদ্বীপের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে অর্থ পাঠাতে হলে অনেক ক্ষেত্রে আগে রুফিয়াকে মার্কিন ডলারে রূপান্তর করতে হয়। কিন্তু ডলারের সংকটের কারণে সরকারি বিনিময় হারে ডলার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় প্রবাসীদের বেশি দামে ডলার কিনতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এরপর বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর জটিলতায় অনেক প্রবাসী অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের দিকে ঝুঁকছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এতে একদিকে প্রবাসীরা প্রকৃত বিনিময়মূল্যের তুলনায় কম টাকা পাচ্ছেন, অন্যদিকে দেশে আসা অর্থ আনুষ্ঠানিক রেমিট্যান্স হিসেবে গণনা হচ্ছে না।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে শুধু প্রবাসীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, দেশও বৈধ রেমিট্যান্স থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনানুষ্ঠানিক পথে অর্থ লেনদেন বাড়লে তা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও আনুষ্ঠানিক রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সমস্যা সমাধানে তিনি কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। এর মধ্যে রয়েছে মালদ্বীপীয় রুফিয়া থেকে সরাসরি বাংলাদেশি টাকায় রেমিট্যান্স পাঠানোর ব্যবস্থা চালু করা, মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা বা এক্সচেঞ্জ হাউস প্রতিষ্ঠা এবং স্বীকৃত মানি ট্রান্সফার অপারেটরের মাধ্যমে একটি কার্যকর বৈধ রেমিট্যান্স করিডোর চালু করা।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও উল্লেখ করেন, গত জুনে মালেতে বাংলাদেশ হাইকমিশন মালদ্বীপ মনিটারি অথরিটির সঙ্গে বৈঠকে সহজ রেমিট্যান্স ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে এ বিষয়ে এখনো দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।
প্রবাসীদের এই সমস্যা দ্রুত সমাধানে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সমন্বিত উদ্যোগ কামনা করেন তিনি।
পোস্টের শেষে মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে যারা দেশে অর্থ পাঠান, তাদের কষ্টার্জিত আয়ের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা জরুরি।
