গাজার উত্তরাঞ্চলে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা প্রায় ১০০ জনের মরদেহের দাফন শুরু করেছেন ফিলিস্তিনিরা। তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ জন শিশু বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) গাজার জেইতুন এলাকার ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা মরদেহগুলো পরিবারের সদস্যরা মধ্য গাজা শহরের আল-মামাদানি কবরস্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাদের দাফন করা হয়।
গাজায় ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে ধ্বংস হওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচে কয়েক হাজার মানুষের মরদেহ এখনও চাপা পড়ে আছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
গাজার জেইতুন এলাকায় ধ্বংস হওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারে কয়েক সপ্তাহ ধরে কাজ করেছেন বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য ও পরিবারের লোকজন।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই মালাকা পরিবারের সদস্য। ওই পরিবারেরই ৫৫ জন সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদক গাজি আল-আলৌল বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর পরিবারগুলো তাদের স্বজনদের পরিচিত ও যথাযথ কবরস্থানে দাফনের সুযোগ পেয়েছে। তবে গাজার সব পরিবার এমন সুযোগ পাচ্ছে না। যুদ্ধের সময় বিভিন্ন এলাকায় কবরস্থানও ধ্বংস ও খুঁড়ে ফেলা হয়েছে বলে তিনি জানান।
উদ্ধার করা মরদেহগুলো কাফনে মোড়ানো থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো পূর্ণাঙ্গ মরদেহ নয়; হাড়ের টুকরা ও নিহতদের সঙ্গে থাকা বিভিন্ন জিনিসপত্র পাওয়া গেছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এমন অবস্থা বেশি দেখা গেছে।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান রায়েদ আল-দাহশান জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা আরও কয়েক হাজার মরদেহ উদ্ধারে তাদের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভারী যন্ত্রপাতির সংকটে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি বলেন, উদ্ধারকর্মীদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও নিরাপত্তা উপকরণও নেই।
আল-দাহশানের হিসাবে, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি পাওয়া গেলে ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা আনুমানিক ৮ হাজার মরদেহ প্রায় ৯০ দিনের মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব। কিন্তু এসব যন্ত্রপাতি গাজায় প্রবেশ করতে না পারলে উদ্ধারকাজ শেষ হতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।
উদ্ধারকাজের জন্য বড় আকারের খননযন্ত্র, নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে মরদেহ শনাক্তের উপকরণ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি।
ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে জীবিত স্বজন ও আশপাশের পরিবারের সদস্যদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। কোনো ভবনে হামলার সময় কারা সেখানে ছিলেন, তাদের অবস্থান কোথায় ছিল—এসব তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহ শনাক্তের চেষ্টা করা হয়।
এ কাজে প্রকৌশলীদের একটি দলও উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ, বাছাই ও নথিভুক্ত করছে।
জাতিসংঘের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয়ের প্রধান অজিত সুনঘে বলেন, এসব দৃশ্য গাজা সংঘাতের ভয়াবহতার কথা মনে করিয়ে দেয়। উদ্ধার হওয়া কিছু মরদেহ ২০২৩ সালের নভেম্বরের বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও হাজার হাজার মানুষ চাপা পড়ে আছেন। গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে থাকায় অনেক জায়গায় পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করা কঠিন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজার ৬৫১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৯২ জন আহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে গাজার বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আরও শতাধিক মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হামলায় নিহত আবু শারিয়া ও হাসানিয়া পরিবারের শতাধিক সদস্যের মরদেহ এবং আল-তাজ টাওয়ারের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৫০০টির বেশি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও অধিকারকর্মীরা।
