জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল পাসের উদ্দেশ্যে সংসদে উত্থাপনের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল।
আজ রোববার সন্ধ্যা ৭টা ৫৬ মিনিটে প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ থেকে বেরিয়ে যান। পরীক্ষাকরণ সংস্ক্রান্ত আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ‘ট্রান্সফার ও প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬’ জনমত যাচাই করার জন্য সংসদে উঠলে এসময় বিরোধী দল ওয়াকআউট করেন।
এসময় বিল পাশের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দুর্বল আইনের পাস করার অংশীদার হবো না। আমরা এ আইনের আলোচনায় অংশগ্রহণ করছি না এবং আমরা এখন ওয়াকআউট করছি। জবাবে স্পিকার বলেন, ওয়াকআউট করার জন্য আপনাদেরও ধন্যবাদ।
জাতীয় সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল পাশের জন্য উত্থাপন করেন আইন মন্ত্রী আসাদুজ্জামান। পরে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল পাশের জন্য উত্থাপন করবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিল দুটো অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়েছিল। পরে সেটি বাতিল করে সরকার।
বিষয়টি উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, সরকারি দলের পক্ষ থেকে যখন বিলগুলো বাতিল করা হয়, তখন বলা হয়েছিল যে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং আরও ভালো আকারে তারা নিয়ে আসবে। মানবাধিকার সংক্রান্ত যে বিলটা এসেছে, সেখানে আইনের স্পষ্ট দ্বৈত প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে। মানবাধিকার কমিশনকে একটা ইউনিফর্ম অথরিটি দেওয়া হয় নাই।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, মানবাধিকার সংক্রান্ত বিলে আইনের স্পষ্ট দ্বৈত প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ যদি কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন করে, তাহলে মানবাধিকার কমিশন সরাসরি তার তদন্ত করতে পারবে।
শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বিশেষ বিধানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনের দ্বৈত প্রয়োগ হতে পারে না। রাষ্ট্রীয় বাহিনী তারা রাষ্ট্রের কর্মচারী, কিন্তু তারা এ দেশের নাগরিক। একই অপরাধে একজনের জন্য সরাসরি তদন্ত করা যাবে, আরেক জায়গায় আটকে পড়ে যাবে—এটা হতে পারে না।
বিরোধী দলীয় নেতা ওয়াকআউট করার পরে স্পিকার বলেন, আপনাকে ওয়াকআউট করার জন্য ধন্যবাদ।
