১ আসনের উপনির্বাচনে সন্ত্রাস, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিরোধী প্রার্থীর কর্মীদের প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা, তাকে প্রত্যাহার এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে জোটটি। একই সঙ্গে ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সেনা মোতায়েনেরও দাবি জানিয়েছে তারা।
বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করে এসব দাবি জানায় ১১ দলীয় ঐক্যের একটি প্রতিনিধিদল।
নির্বাচন ভবনে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে নির্বাচন কমিশনকে বলা হয়েছে। ওই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে।
নির্বাচনে সন্ত্রাস, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংখ্যালঘুসহ সব ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। সাধারণ ভোটারদের অনেকে মনে করেন, সেনাবাহিনীর উপস্থিতি নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।
ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনকে কঠোর নজরদারি রাখার আহ্বান জানান তিনি। কোনো অনিয়ম দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান ১১ দলীয় ঐক্যের এই সমন্বয়ক। তার ভাষ্য, নির্বাচন কমিশন আশ্বাস দিয়েছে, যা ইতিবাচক। তবে মাঠপর্যায়ে সেই আশ্বাসের বাস্তব প্রতিফলন ঘটতে হবে। এই উপনির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও সক্ষমতার বাস্তব পরীক্ষা।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া আসন হিসেবে ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য হয়। এই আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তার ভাই মির্জা ফয়সাল আমির। জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসাইন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ৩৭ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলাওয়ার হোসাইন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজার ভোট।
১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. বিল্লাহ হোসেন মিয়াজী, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন রানা এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।

গণভোটের গণরায় না মানলে তারেক রহমানেরও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
লগি-বৈঠার তাণ্ডবের বিচার দাবিতে সিলেটে জামায়াতের মিছিল
শুধু বাংলাদেশের নয়, ঢাকা হবে ইসলামী আন্দোলন ও রাষ্ট্রের রাজধানী: এমপি মাসুদ