প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়া সফর উপলক্ষে একটি কাঁচা সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হয়েছিল। তবে সফর শেষ হওয়ার কিছুদিন পর সেই ইট সরিয়ে নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা থেকে চৌকির খাল হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি জিয়াবাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার কাঁচা সড়ক উন্নয়নের জন্য আগেই প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের আওতায় সড়কটি পাকাকরণের জন্য প্রায় ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দও দেওয়া হয়।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থায়ী উন্নয়নকাজ শুরু না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে সড়কটিকে চলাচল উপযোগী করতে দ্রুত অস্থায়ীভাবে ইটের সোলিং করা হয়। পরে সফর শেষ হলে সেই ইট সরিয়ে নেওয়া হয়।
সড়ক থেকে ইট অপসারণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সাময়িক ব্যবস্থার পরিবর্তে স্থায়ী উন্নয়নকাজ কেন আগে সম্পন্ন করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের সময় সড়কটি ব্যবহারে স্বস্তি মিললেও বর্তমানে আবারও চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত স্থায়ীভাবে সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্মকর্তারা জানান, সড়কে ব্যবহৃত ইটগুলো স্থায়ী নির্মাণকাজের অংশ ছিল না। অস্থায়ীভাবে সড়কটি ব্যবহারের উপযোগী করতে ভাড়ায় আনা ইট দিয়ে সোলিং করা হয়েছিল। পরে মূল প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এলজিইডির কর্মকর্তাদের দাবি, প্রকল্পটির কাজ এখনও চলমান রয়েছে এবং কার্যাদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থায়ী উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাগবাড়ি-সোনাহাটা সড়ক থেকে জিয়াবাড়ি পর্যন্ত সংযোগ সড়ক উন্নয়নের জন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পূর্ণাঙ্গ নির্মাণকাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অস্থায়ী ব্যবস্থার পরিবর্তে দ্রুত স্থায়ীভাবে সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটানো হবে।
