স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ছনুয়া-রাজাখালী ব্রিজ নির্মাণের দাবি ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে। তবে ব্রিজের সম্ভাব্য অবস্থান নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে দুটি ভিন্ন মত তৈরি হয়েছে।
একটি পক্ষ খয়রাতি ঘাটে এবং অন্য পক্ষ ভাঙাখালী সাঁকোর স্থানে ব্রিজ নির্মাণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, উভয় পক্ষের মানুষের মূল চাহিদা মূলত একই — দ্রুত ও সহজে রাজাখালীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো এবং পেকুয়ার বাজার, হাসপাতাল ও প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে যোগাযোগ সহজতর করা।
ছনুয়া থেকে প্রতিদিন সহস্রাধিক শিক্ষার্থী রাজাখালী ফৈজুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজাখালী ফৈজুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ এবং রাজাখালী বিইউআই কামিল মাদ্রাসায় যাতায়াত করে। এছাড়া চিকিৎসা, ব্যাংকিংসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ছনুয়াবাসীর পেকুয়ার ওপর নির্ভরশীলতা ব্যাপক।
ভাঙাখালীর পক্ষ যুক্তি দিয়ে বলছেন, পেকুয়া থেকে রাজাখালীর প্রধান সড়ক ভাঙাখালী হয়ে আরবশাহ বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় সেখানে ব্রিজ নির্মিত হলে তা বিদ্যমান সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে।
অন্যদিকে খয়রাতি ঘাটে ব্রিজ নির্মাণ করা হলে ছনুয়ার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হবে, অর্থাৎ তাদের যাতায়াতের দূরত্ব কমার বদলে বেড়ে যাবে।
ভাঙাখালীতে বেড়িবাঁধ এখনো সম্পূর্ণ পাকা না হওয়ায় কেউ কেউ সেখানে ব্রিজ নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এর জবাবে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ব্রিজ দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এ অঞ্চলের সড়ক ও বেড়িবাঁধ উন্নত হবে, এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা।
এলাকাবাসীর দাবি, ব্যক্তিগত বা পাড়াভিত্তিক সুবিধার চেয়ে বৃহত্তর জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যে স্থানে ব্রিজ নির্মাণ করলে সর্বাধিক মানুষের যাতায়াতের দূরত্ব কমবে এবং শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে, সেই স্থানকেই চূড়ান্ত করা উচিত বলে তারা মনে করেন।
