এলাকাভিত্তিক সরকারি বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের নারী সংসদ সদস্যদের বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে সরকারের সমালোচনা করেছেন এনসিপির নেত্রী ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ৫০ জন নারী সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৭ জন বরাদ্দ পেলেও ১৩ জনকে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক দল ভিন্ন হওয়ার কারণেই এসব নারী এমপিকে বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
মাহমুদা মিতু বলেন, “প্রশ্নটা বরাদ্দের থেকেও বেশি মানসিকতার। কতটা সংকীর্ণ মানসিকতা হলে এমন বিভাজন বজায় রাখা যায়?” তিনি অভিযোগ করেন, এই ধরনের আচরণ দেশের পুরোনো কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন বহন করে।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সংসদে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত নারীরা রয়েছেন, রয়েছেন একজন শহীদের মাও। তাদের মধ্যেও কেউ কেউ আইনি ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
এনসিপি নেত্রী বলেন, সংসদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নারী প্রতিনিধিরা একসঙ্গে কাজ করেন এবং মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখেন। তার ভাষায়, “গণতন্ত্রে মতের পার্থক্য স্বাভাবিক, কিন্তু সেই পার্থক্যকে শত্রুতা বা সম্পর্কের দেয়ালে রূপ দিতে চাই না।”
সরকারের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে মাহমুদা মিতু বলেন, যদি সরকার নিজেই রাজনৈতিক সংকীর্ণতার পরিচয় দেয়, তাহলে সমাজে সহনশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও গণতান্ত্রিক চর্চার প্রত্যাশা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে নারী সংসদ সদস্যদের বরাদ্দ বণ্টন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা হবে।
মাহমুদা মিতুর এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্কও তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে সরকারি বরাদ্দ বণ্টনে দলীয় পরিচয় কতটা প্রভাব ফেলছে—সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।
