দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নবম জাতীয় বেতনকাঠামো ইতিমধ্যে সরকারের অনুমোদন পেয়েছে, এখন কেবল আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির পালা বাকি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক আদেশ চলতি সপ্তাহের মধ্যেই—আজ কিংবা আগামীকালের ভেতরে—প্রকাশিত হতে পারে।
গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন যে অর্থ বিভাগ শিগগিরই এই আদেশ প্রকাশ করবে, আর তখনই বেতনকাঠামো সংক্রান্ত যাবতীয় খুঁটিনাটি পরিষ্কার হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকেই নতুন এই বেতনকাঠামোয় সম্মতি দেওয়া হয়। একইসঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য প্রযোজ্য যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী ২০২৬-কেও নতুন বেতনকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই দুটি সিদ্ধান্তই চলতি বছরের পয়লা জুলাই থেকে পূর্বসূত্রে কার্যকর বলে গণ্য হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।
বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা যায়, ২০২৫ সালের জাতীয় বেতন কমিশন এবং সশস্ত্রবাহিনী বেতন কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর সরকার একটি সচিব পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছিল, যাদের কাজ ছিল সুপারিশমালা তৈরি করা। ওই কমিটির জমা দেওয়া প্রতিবেদনই মন্ত্রিসভার বৈঠকে খুঁটিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।
এই পর্যালোচনায় সরকারের সামর্থ্য, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক চিত্র, মূল্যস্ফীতির চাপ, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং সরকারি কর্মীদের জীবনযাত্রার মানের বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে বিবেচিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
নতুন অনুমোদিত জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ পূর্বের মতোই বিশটি বেতন গ্রেড বহাল থাকছে, তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। সবচেয়ে নিচের গ্রেড, অর্থাৎ বিংশতম গ্রেডের সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক বেতন স্থির হয়েছে ২০ হাজার টাকায়, আর শীর্ষ গ্রেড অর্থাৎ প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন নির্ধারিত হয়েছে এক লাখ ছাপ্পান্ন হাজার টাকায়।
বেতনকাঠামোয় সমতার নীতিও অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। এ লক্ষ্যে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের মধ্যকার বেতনের ব্যবধান কমানো হয়েছে—পূর্বের ১:১.৯৪৫ অনুপাতকে নামিয়ে আনা হয়েছে ১:১.৭৮-এ। এর ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি পাবে ১৪২ শতাংশ হারে, আর সর্বোচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন বাড়বে ১০০ শতাংশ।
