সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
Logo
×

মিমোর মৃত্যুর পর সকালে কলা ভবনে গিয়ে কী নিলেন সুদীপ? সিসিটিভি ফুটেজ ঘিরে নতুন প্রশ্ন

প্রথম সমাচার ডেস্ক ০২ মে ২০২৬, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এবার সামনে এসেছে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুদীপ চক্রবর্তীর একটি সিসিটিভি ফুটেজ, যেখানে মিমোর মৃত্যুসংবাদ জানার কিছুক্ষণ পরই তাকে কলা ভবনের ব্যক্তিগত কক্ষে প্রবেশ ও দ্রুত কিছু কাগজপত্র নিয়ে বের হতে দেখা গেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, মিমোর মৃত্যুর খবর ভোর ৬টা ৫৮ মিনিটে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে জানানো হয়। সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের মধ্যেই বিভাগের অধিকাংশ সদস্য বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে মিমোর পরিবারের সঙ্গে ড. সুদীপ চক্রবর্তীরও প্রায় দুই মিনিট ফোনে কথা হয়।

এরপর যখন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিমোর বাসার উদ্দেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় সকাল ৮টা ৩১ মিনিটে ড. সুদীপ চক্রবর্তীকে মাস্ক পরিহিত অবস্থায় দ্রুত কলা ভবনে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তিনি সরাসরি তার ব্যক্তিগত কক্ষ ৩০৪০-এ যান। এই কক্ষটি নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে, কারণ মৃত্যুর আগের রাতেও রাত ৯টা পর্যন্ত সেখানে তার ব্যক্তিগত নাট্যদল ‘থিয়েট্রেক্স’-এর কার্যক্রম চলেছিল। সেই কার্যক্রমে মিমোসহ দলের আরও কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, কক্ষে ঢোকার মাত্র এক মিনিটের মধ্যে সকাল ৮টা ৩২ মিনিটে ড. সুদীপকে হাতে কিছু কাগজপত্র নিয়ে দ্রুত বের হয়ে যেতে দেখা যায়। আরও লক্ষণীয় বিষয় হলো, তিনি সামনের মূল সিঁড়ি ব্যবহার না করে ভবনের পেছনের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে যান—যে পথটি শিক্ষকরা সাধারণত খুব কম ব্যবহার করেন। এই দ্রুত প্রবেশ ও প্রস্থান, এবং হাতে থাকা কাগজপত্র নিয়েই মূলত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সন্দেহের জন্ম হয়েছে।

বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থীর দাবি, ওই কাগজগুলোতে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা নথি থাকতে পারে, যা ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাদের আশঙ্কা, মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পরপরই তড়িঘড়ি করে কক্ষে গিয়ে সেসব নথি সরিয়ে ফেলা বা নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি, তবে ঘটনাটি তদন্তের দাবি আরও জোরালো করেছে।

উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে ড. সুদীপ চক্রবর্তীর ওই কক্ষটি সিলগালা করে রেখেছে। ফলে কক্ষে থাকা নথিপত্র, ব্যক্তিগত উপকরণ কিংবা সংশ্লিষ্ট আলামত এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মিমোর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আর্থিক লেনদেন এবং মানসিক চাপের নানা অভিযোগ সামনে আসছিল। তারই মধ্যে এই সিসিটিভি ফুটেজ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন—মৃত্যুসংবাদ জানার পর সবার আগে একজন শিক্ষক কেন বাসার দিকে না গিয়ে ব্যক্তিগত কক্ষে ছুটলেন? মাত্র এক মিনিটে কী এমন প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করলেন? এবং কেনই বা পেছনের সিঁড়ি ব্যবহার করলেন?

বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে এখন এই প্রশ্নগুলোই ঘুরপাক খাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া এসব সন্দেহ দূর হবে না। অন্যদিকে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। মিমোর মৃত্যুর রহস্যের সঙ্গে এই সকালের অস্বাভাবিক গতিবিধির কোনো যোগসূত্র আছে কি না—সেটিই এখন জানতে চায় সবাই।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...