তবে ‘মাবুস’ যে মোহাম্মদ বিন সালমানকেই নির্দেশ করে, তার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। এটি হগের নিজস্ব ব্যাখ্যা।
হগের আশঙ্কা, এমন যুদ্ধ শুরু হলে পশ্চিম এশিয়ায় তেল, হিলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসশিল্প ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এর ফলে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা, তেল ও গ্যাসের পাইপলাইন এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নেটওয়ার্ক বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও পানির সংকট দেখা দিতে পারে।
রাশিয়া-ন্যাটো সংঘাত থেকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ?
ইউরোপে রাশিয়া ও ন্যাটোর মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছেন জন হগ। তার মতে, ইউরোপের দেশগুলো সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করলে রাশিয়া ইউরোপের অস্ত্র কারখানাগুলো লক্ষ্য করে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে।
এ ধরনের হামলার পাল্টা জবাবে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে আঞ্চলিক সংঘাত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
২০২৮ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পতনের দাবি
জন হগের আরেকটি বড় পূর্বাভাস হলো, বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ২০২৮ সালের মধ্যে ভেঙে পড়তে পারে। তার মতে, কয়েক শতাব্দী ধরে পশ্চিমা আধিপত্যের যে ধারা চলে আসছে, তা এখন পতনের দিকে এগোচ্ছে।
তিনি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কে ‘শোফার সাইলেন্স’ নামে একটি ২৪ মাসের জ্যোতিষচক্রের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তার দাবি, এ সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে পারে।
হগের পূর্বাভাসে রয়েছে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, ডিজেলের তীব্র সংকট, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জাতীয় ঋণের বোঝা বৃদ্ধি। তার মতে, এসব পরিস্থিতি ও ট্রাম্পের বিভাজনমূলক নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক প্রভাব কমিয়ে দিতে পারে।
এমনকি ২০২৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার বার্ষিকীর দিনটিকে দেশটির বৈশ্বিক আধিপত্যের পতনের প্রতীকী সময় হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
শান্তির আহ্বান
ভয়াবহ এসব পূর্বাভাসের কথা জানিয়ে জন হগ বলেছেন, তার উদ্দেশ্য মানুষকে আতঙ্কিত করা নয়; বরং সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্ক করা। তার আশা, এসব সতর্কবার্তা মানুষকে সহিংসতার পরিবর্তে শান্তির পথ বেছে নিতে উৎসাহিত করবে।
তবে নস্ত্রাদামুসের ভবিষ্যদ্বাণীর বিভিন্ন ব্যাখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। জন হগের এসব দাবিও যাচাইযোগ্য বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস নয়। ফলে ২০২৮ সালের মধ্যে পারমাণবিক হামলা, ২৭ বছরের বিশ্বযুদ্ধ কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পতন ঘটবে-এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই।
দ্য সান এক্সক্লুসিভ

পশ্চিমবঙ্গে ‘জলকে পানি’ ও ‘আম্মাকে মা’ বলা যাবে না: শুভেন্দু অধিকারী
নোবেল না পাওয়ায় নরওয়েকে ‘নোংরা’ দেশ বললেন ট্রাম্প
সীমান্তে বিএসএফের গুলি, বাংলাদেশিদের গুলি করে মারার হুমকি দিল বিজেপি বিধায়ক