শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
Logo
×

সিগারেটের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা, প্রথমবার করের আওতায় আসছে নিকোটিন পাউচ

প্রথম সমাচার ডেস্ক ১১ জুন ২০২৬, ০১:৫৭ অপরাহ্ন

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কমানোর লক্ষ্যে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো নিকোটিন পাউচের মূল্য নির্ধারণ ও কর আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সিগারেটের বিভিন্ন স্তরের খুচরা মূল্য বাড়ানো হচ্ছে। নতুন মূল্য কাঠামো কার্যকর হলে নিম্নস্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের দাম ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরের ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরের ১৬০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দাম ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে।

বর্তমান মূল্যের তুলনায় নিম্নস্তরের সিগারেটে ২ টাকা, মধ্যম স্তরে ১০ টাকা, উচ্চ স্তরে ২০ টাকা এবং প্রিমিয়াম শ্রেণিতে ২৫ টাকা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি পাবে। ফলে প্রতি শলাকায় মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ হবে প্রায় ২০ পয়সা থেকে আড়াই টাকা পর্যন্ত।

এবারের বাজেটে ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্য হিসেবে পরিচিত নিকোটিন পাউচকেও কর ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি ১০ গ্রাম নিকোটিন পাউচের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হবে। এ পণ্যের ওপর ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ৩৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্যের ওপর ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আরোপের কথাও বিবেচনায় রয়েছে। হিটেড টোব্যাকোর ক্ষেত্রে প্রতি ১০ শলাকার সর্বোচ্চ মূল্য ২১০ টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক ৬৭ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সরকার তামাকজাত পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রাখার পাশাপাশি বাজারে অবৈধ উৎপাদন ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে তামাকপণ্যের উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রম আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে একদিকে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, অন্যদিকে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার কমিয়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

উল্লেখ্য, নিকোটিন পাউচ হলো ধোঁয়াবিহীন একটি নিকোটিনজাত পণ্য, যা ব্যবহারকারীরা ঠোঁট ও মাড়ির মাঝখানে রেখে ব্যবহার করেন। ধীরে ধীরে এতে থাকা নিকোটিন শরীরে প্রবেশ করে। আন্তর্জাতিক বাজারে এ ধরনের পণ্য প্রথম বাণিজ্যিকভাবে চালু হয় ২০১৪ সালে।

বর্তমানে তামাক ও তামাকজাত পণ্য দেশের অন্যতম বড় রাজস্ব উৎস। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি প্রস্তাবিত বাজেটে দেশে উৎপাদিত মদের ওপরও নতুন সম্পূরক শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো এবং রাজস্ব বৃদ্ধি—দুই লক্ষ্য সামনে রেখেই এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...