দেশের বাইশতম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্যগত জটিলতার কথা জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠান।
এই ঘটনার পরপরই রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে নতুন এক প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে—দায়িত্বে থাকাকালে নেওয়া সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ডের জন্য পদত্যাগের পর তাঁকে কি আইনি কাঠামোর মুখোমুখি হতে হতে পারে?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে সংবিধানের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের দিকে তাকাতে হয়, যেখানে রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য একধরনের সুরক্ষাবলয় নির্ধারণ করা আছে। এই বিধান বলছে, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বা সেই সূত্রে নেওয়া কোনো পদক্ষেপের জন্য রাষ্ট্রপতিকে আদালতে ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য করা যায় না।
সহজ কথায়, চাকরিরত অবস্থায় দায়িত্বের অংশ হিসেবে করা কাজের দায় নিয়ে তাঁকে ফৌজদারি বা দেওয়ানি কোনো মামলায় জড়ানো সম্ভব নয়। অবশ্য এই সুরক্ষা চিরস্থায়ী বা সর্বব্যাপী নয়—সংবিধানের ৫২ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত অভিশংসন-প্রক্রিয়ার পথ এতে বন্ধ হয় না, আর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার সাধারণ নাগরিক অধিকারও এতে ক্ষুণ্ণ হয় না।
সংবিধান বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই দায়মুক্তির পরিধি মূলত সরকারি দায়িত্বের সীমার মধ্যে থাকা কর্মকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ। ব্যক্তিগত পর্যায়ে করা কোনো অপরাধ বা দাপ্তরিক ভূমিকার বাইরের কাজের ক্ষেত্রে এই ঢাল কতটা কার্যকর, তা নিয়ে সংবিধানের ভাষ্য স্পষ্ট নয়।
একইভাবে, মেয়াদ শেষে সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে অতীতের কোনো সিদ্ধান্তের জের ধরে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যাবে কি না—এ প্রশ্নেও সংবিধান কোনো সরাসরি দিকনির্দেশনা দেয় না। ফলে এমন পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মূলত আদালতের ব্যাখ্যা এবং তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করে।
এখানে আরও জানা প্রয়োজন, সংবিধানের ৫০(৩) ধারা অনুযায়ী স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরিত চিঠি পাঠিয়েই রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়তে পারেন, এবং নতুন কেউ দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত ৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ মোতাবেক স্পিকারই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাজ চালিয়ে যান। পাশাপাশি ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদ খালি হওয়ার তিন মাসের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
