গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (জিইউবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ারের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ২০২৬ সালের এ তালিকায় তার অন্তর্ভুক্তি গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে তার অবদানের একটি উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি।
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিনের বৈশ্বিক অবস্থান ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭৬১তম। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি তার গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র। এ ক্ষেত্রে তার উপ-ক্ষেত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইমেজ প্রসেসিংয়ে বৈশ্বিক অবস্থান ৮ হাজার ৫১০তম। তাঁর এইচ-ইনডেক্স ১৩ এবং এইচএম-ইনডেক্স ৭, যা গবেষণায় তার অবদান ও প্রভাবের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
এ অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়ে আমি আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। এ অর্জনের পেছনে আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, গবেষণা সহযোগী, নিষ্ঠাবান শিক্ষার্থী এবং গবেষক দলের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাদের সহযোগিতা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা আমাকে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু জানার, গবেষণার পরিধি বাড়ানোর এবং প্রযুক্তির নতুন সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করার সাহস জুগিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, এ স্বীকৃতি শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দীর্ঘদিনের গবেষণার পথচলায় যারা আমার পাশে ছিলেন, তাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন। মহান আল্লাহ যেন আমাকে বিজ্ঞান, গবেষণা ও মানবকল্যাণে আরও বেশি অবদান রাখার সুযোগ দান করেন।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্নাতক, জাপানের শিগা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর এবং কিয়োটো ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি সিঙ্গাপুর, জাপান, জার্মানি ও চীনের খ্যাতনামা গবেষণাগারে পোস্টডক্টরাল গবেষণাও সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা, উচ্চশিক্ষা এবং উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বিশেষ করে, ২০০৪ সালে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের চলাচলে সহায়তার জন্য তার উদ্ভাবিত ‘ইলেকট্রনিক আই’ প্রযুক্তি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সাড়া সৃষ্টি করে এবং সিএনএন, বিবিসি, রয়টার্স ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রশংসিত ও আলোচিত হয়।
তার গবেষণার প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার ভিশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং, ইমেজ প্রসেসিং এবং অ্যাগ্রো-বায়োমেডিক্যাল ইমেজিং। তার প্রায় ৩০০টি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এলসেবিয়র, স্প্রিংগার, আইইইই ও এসিএম-এর মতো প্রকাশনা প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়েছে এবং তার গবেষণাকর্মের গুগল স্কলার-এ সাইটেশন সংখ্যা ৭ হাজার ৮০০ অতিক্রম করেছে। বিজ্ঞান ও গবেষণায় তার দুটি পেটেন্ট রয়েছে।
পেশাগত স্বীকৃতির অংশ হিসেবে তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস (বিএএস), ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির (বিসিএস) ফেলো। তিনি ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ার্সের (আইইইই) সিনিয়র সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী আইইইই অ্যাকসেস-এর সহযোগী সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিনের এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি তার দীর্ঘদিনের গবেষণা, উদ্ভাবন ও উচ্চশিক্ষায় অবদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এই অর্জন গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার অগ্রযাত্রাকেও আরও সমৃদ্ধ ও গৌরবান্বিত করবে। এই গৌরবময় অর্জনে গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ পরিবার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিনকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছে এবং বিজ্ঞান, গবেষণা, উদ্ভাবন ও উচ্চশিক্ষায় তার অব্যাহত সাফল্য কামনা করছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে হেনস্তা, ইতিহাস পরিবহনের ১২ বাস আটক
মালয়েশিয়ায় দুটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন চবি শিক্ষক শহীদুল হক
ঢাবির জগন্নাথ হল থেকে ছাত্রলীগ নেতা আটক