সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
Logo
×

ফেসবুক বিড়ম্বনা

প্রথম সমাচার ডেস্ক ১০ মে ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ন

মোছা.জেরিন ফেরদৌস:

ফেসবুক যা মেটা প্ল্যাটফর্মের আওতাধীন  বিশ্ব সামাজিক আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থার একটি জনপ্রিয়  মাধ্যম।
বাংলাদেশে ফেসবুক চালু হয় ২০০৬ সালের ২২ই আগস্ট। বর্তমানে দেশে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মোবাইল ব্যবহার করে।

একই সাথে দেশের অর্ধেক  মানুষ ব্যবহার করে ইন্টারনেট।তার মধ্যে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ অনুযায়ী ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত বাংলাদেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা  ৬৭.১৮ মিলিয়নে।  বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ অনুযায়ী ইন্টারনেট ব্যবহার করে না ৫১.১শতাংশ জনগন।  সংখ্যাগরিষ্ঠ স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারী জনগণের মধ্যে ফেসবুক মেটানীতিমালা নিয়ে সচেতনতা নেই।  ডিজিটাল লিটারেসি কম জানা, ইংরেজিতে পলিসি হওয়া, নিজেদের অজ্ঞতা, ইত্যাদি কারনে জনগনের ভেতর সঠিক ফেসবুক নীতিমালা  চর্চা নেই।ফেসবুক রিঅ্যক্ট বাটনগুলো যেনো বিড়ম্বনার বাক্স হয়ে উঠেছে। ২০০৯  লাইক বাটন চালু হয়।

২০১৫  প্রতিক্রিয়া বাটন পরীক্ষণ শুরু হয়।৬ প্রকারের প্রতিক্রিয়া  স্পেন, আয়ারল্যান্ডে টেস্ট করার পর২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬  বিশ্বব্যাপী ‘ফেসবুক প্রতিক্রিয়া’র যাত্রা শুরু হলো। লাইক এর সাথে  লাভ, হাহা,ওয়াও,  স্যাড, এঙরি ২০২০ সালে একটি  ‘কেয়ার’  রিঅ্যাক্ট যুক্ত হলো।
করোনা মহামারির সময় মানুষের প্রতি সহানুভূতি   প্রকাশ করা হতো ‘কেয়ার’ বা দুঃখের প্রতিক্রিয়া দিয়ে।
‘কেয়ার’ সহ ৭টি রিঅ্যাক্ট কী বোঝায়?

আনুষ্ঠানিক বনাম  বাঙালি ভার্সন।
রিঅ্যাক্ট মেটার অফিশিয়াল অর্থ অনেকেই সঠিকভাবে বুঝে উঠতে পারে না। যেকোনো পোস্ট  ভালো লেগেছে, সমর্থন করা  সেক্ষেত্রে একটি লাইক দিয়ে থাকি।
সবচেয়ে নিরাপদ অপশন।  ‘লাভ’ বলতে খুব পছন্দ হয়েছে, আবেগের সাথে যুক্ত এরুপ ধারণা করি।
‘হাহা’ বলতে কেবলমাত্র , হাস্যকর হাসি ব্যঙ্গ ট্রলই ধারণা করা হয় অথচ রিঅ্যক্ট  অনুযায়ী অ্যলগরিদম কাজ করে।
যে পলিসিগুলো অধিকাংশ মানুষই জানে না
যেমন-কমিউনিটি স্ট্যন্ডার্ড, ডেটা সেটিংস, ফ্যাক্ট চেইক কপিরাইট ইত্যাদি।  এসমস্ত নিয়মনীতি সঠিকভাবে না জানা এবং বাস্তবিক প্রয়োগ না হওয়ার ফলে বিভিন্ন সময়
গুঁজব ছড়াচ্ছে, সাইবার বুলিং বাড়ছে এবং হুমকিতে পড়ছে প্রাইভেসি। আমাদের রয়েছে স্পেশাল রিঅ্যকশন সংস্কৃতি।

মনে রাখা জরুরি রিএক্ট ফ্রী কিন্তু এই রিঅ্যক্টে কারো ক্ষতি হয় না।  কিন্তু এই রিঅ্যক্ট করার ফলে যদি কারো বিপক্ষে ‘সাইবার বুলিং এবং ভায়োলেন্স’ সৃষ্টি করা হয় তা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।  ব্যক্তি পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার শহরে৭৫দশমিক ৭ শতাংশ, গ্রামে ৪৩.৬ শতাংশ।
ইন্টারনেট ব্যবহারের দক্ষতা না থাকার কারণে ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি।  ইন্টারনেট ব্যবহারে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে ৫০দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারীর ভাইরাস ও ম্যালওয়্যারকে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বত্র প্রতারণা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। সাইবার স্পেসে টার্গেট বয়স্ক এবং গৃহিণীরা।

রিঅ্যক্ট যখন রায়,
‘হাহা’ রিঅ্যক্টের কারণে সাইবার বুলিং ও  ডিজিটাল বিভ্রান্তি যেমন – ‘লাইক’ দিতে দায়,’হাহা’ দিতে দায়!
এরুপ সংকীর্ণতায় ভোগেন বাংলাদেশর  ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।  যা সামাজিক  বিড়ম্বনায় আচ্ছন্ন।
ডিজিটাল লিটারেসি সম্পর্কে মৌলিক ধারণা না থাকার ফলে অন্যের সাহায্য নিয়ে ফেসবুক অ্যকাউন্ট খোলা এবং তা ব্যবহারকারীরা বুঝে উঠতে সক্ষম হন না ‘হাহা’ প্রতিক্রিয়া একটি বাটন ‘হাহা’ কেবলমাত্র ট্রল, ব্যঙ্গের ভাষা নয়।  অবস্থাভেদে কখনও তা প্রতিবাদের ও ভাষা।
সমাজে সংঘাত সৃষ্টি হচ্ছে তখনই যখন কেবলমাত্র একটি প্রতিক্রিয়া কে কেন্দ্র করে, প্রতিক্রিয়া দাতাকে
দ্রুতগতিতে বিচার করে অপমান করা হয়।
রিঅ্যক্ট থেকে অপমান সাইবার বুলিং এর হরহামেশা ঘটে যাওয়া চিত্র।  প্রতিক্রিয়াকারীকে কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে সাইবার বুলিং করছে।
ইউনিসেফ বাংলাদেশ ২০২৩ রিপোর্ট বলছে ৩২ শতাংশ কিশোর-কিশোরী সাইবার বুলিং এর শিকার।
বিবিএস সার্ভে বলছে,৪০ শতাংশ মানুষ সঠিকভাবে
ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষ নয়। অনেকে ইন্টারনেট ডিফেন্স মেকানিকজমকে অবহেলা করে। কনটেক্সট  ক্রাইসিসে অনেক সময়  ফেসবুক ব্যবহারকারী  ব্যঙ্গাত্নক বা সমর্থনমূলক পোস্টের তারতম্য করতে পারেন না।
‘হাহা’ প্রতিক্রিয়া একটি সংকেত বা বাটন মাত্র।
৮কোটি মানুষ নতুন ইন্টারনেট জগৎ এ প্রবেশ করেছে করলেও ‘গাইডলাইন’ না থাকার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে সহিংসতা এবং এসমস্ত  বিশৃঙ্খলা এক পর্যায়ে অফলাইন পর্যন্ত পৌঁছে প্রভাব পড়ছে সমাজও জাতীয় জীবনে।  এমন কিছু হৃদয়বিদারক চিত্র বিগত দিনগুলোতে দেখা গেছে,
০২রা এপ্রিল, ২০২৪ ফেসবুকে ‘হাহা’ দেয়াকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের সংঘর্ষে ১০ দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে।  ৩০ নভেম্বর, ২০২৪ ফেনীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টে ‘হাহা’ রিএক্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে আহত করা হয়েছে ৪ কিশোরকে।
৩০ নভেম্বর, ২০২৪ ছুরিকাঘাতে পাঁচজনকে আহত করেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একই কারনে।
মার্চ, ২০২৬ ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নাতি নিহতের খবর শুনে দাদার মৃত্যু ঘটেছে।
ক্রাইসিস ডকুমেন্টেশন সেন্টার ক্রিড এর প্রতিবেদন বলছে, ফেসবুক পোস্ট কে কেন্দ্র করে ২৩ দিনে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।

তবে প্রশ্ন হলো এ সমস্ত সামাজিক সমস্যার নেপথ্য কি?
দ্যা ডেইলি স্টার টিচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
“ডিজিটাল লিটারেসিতে বাংলাদেশ এখনও তুলনামূলক অনেক পিছিয়ে।”

তাই বাংলাদেশের বহুল জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বাংলাদেশ সরকারের নজরদারি ডাক ও  টেলিযোগাযোগ  মন্ত্রণালয় বিটিআরসি কর্তৃক হস্তক্ষেপ এবং অপরাধ দমনে  ট্রাইব্যুনাল সমূহের সাথে  সমন্বয় সাধন করে কাজ করাটা এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করা বিশেষভাবে জরুরি।

যা বর্তমান সময়ের সর্বোচ্চ দাবী।  শিক্ষা ছাড়া প্রযুক্তির কড়ালঘাত  সমাজকে যেভাবে গ্রাস করেছে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের নিমিত্তে সর্বসাধারণের মধ্যে  ফেসবুক ব্যবহারে সচেতনতামূলক সভা, সেমিনারের মাধ্যমে সকল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে বিরত থাকা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি  এবং সমাজ হবে  সুশৃঙ্খল নাগরিক হয়ে উঠবে প্রকৃত স্মার্ট।

মোছা.জেরিন ফেরদৌস।
শিক্ষার্থী,
প্রয়াস ইন্সটিটিউট অফ স্পেশাল এডুকেশন এন্ড রিসার্চ,
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্।
ইমেইল:jarinferdous303@gmail.com
ঠিকানা:ঢাকা,বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...