সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
Logo
×

৯ বছর পর চীন সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক প্রথম সমাচার ১৩ মে ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বিকেলে চীনের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে অংশ নিতে তিনি ১৫ মে পর্যন্ত বেইজিং সফর করবেন।

এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে চীনে প্রথম সফর এবং ২০১৭ সালের পর প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের চীন সফর।

মূলত এপ্রিলের শুরুতে এই সফর নির্ধারিত ছিল। কিন্তু চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করলে সফরটি স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর পুনরায় সফরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, এই বৈঠকে বাণিজ্য ও শুল্ক ইস্যু প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে। পাশাপাশি ইরান সংকট, বিশেষত হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে চীনের সহযোগিতা চাইবে ওয়াশিংটন। হরমুজ প্রণালী দিয়ে একসময় বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হতো।

ইরানের অবরোধের ফলে এই পথ বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে গত এপ্রিলে পেট্রলের দাম এক বছরের তুলনায় ২৮ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। রওয়ানার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “ইরান নিয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হবে। তবে বাণিজ্যই হবে মূল এজেন্ডা।”

এই বৈঠককে ঘিরে তাইওয়ানে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্প হয়তো তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে চীনের সঙ্গে আপস করতে পারেন, যা রিগান প্রশাসনের আমল থেকে চলে আসা দীর্ঘস্থায়ী নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।

ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক ও টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কসহ এক ডজনেরও বেশি শীর্ষ প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক নির্বাহী বেইজিং যাচ্ছেন।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সফর থেকে বড় কোনো যুগান্তকারী ফলাফলের আশা করা ঠিক হবে না, তবে এটি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাস ও সম্পর্ক স্থিতিশীল করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বিশেষজ্ঞ কাইল চ্যান বলেন, “ট্রাম্প ও শি মূলত তাদের সম্পর্ক পুনঃনিশ্চিত করতে এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চাইছেন।” এদিকে এই সফরকে ঘিরে ইউরোপেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যদি পারস্পরিক বোঝাপড়ায় পৌঁছায়, তবে ইউরোপ বৈশ্বিক বাণিজ্য ও কূটনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়তে পারে।

তথ্যসূত্র: এনবিসি নিউজ, সিএনবিসি, আল জাজিরা, ওয়াশিংটন পোস্ট

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...