জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, শিষ্টাচার, ক্রিকেট বোর্ড এবং নিজের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে বিস্তর মন্তব্য করেছেন।
স্ট্যাটাসের শুরুতেই তিনি উল্লেখ করেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরও খালেদা জিয়া কিংবা তারেক রহমান কখনো ব্যক্তিগতভাবে তার নাম উল্লেখ করে কটূক্তি করেননি। এটিকে তিনি “পারিবারিক শিক্ষা” হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তরুণ রাজনীতিকদের উদ্দেশে অবস্থান ও ব্যক্তিত্ব বুঝে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আসিফ আকবর লেখেন, “গণহত্যাকারী এবং তাদের দোসরদের হিসাব আলাদা।” এরপর তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় দেশের এক ক্রিকেট ব্যক্তিত্বের সমালোচনা করেন। যদিও কারও নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি, তবে দাবি করেন, ৩ আগস্ট গণভবনে অবস্থান করা ওই ব্যক্তি দেশের পরিস্থিতির মধ্যেও ক্ষমতার বলয়ে সক্রিয় ছিলেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে দীর্ঘদিন ধরেই ক্রিকেট বোর্ডকে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি খেলাধুলা ও সংস্কৃতি খাতকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়ায় প্রতিপক্ষ সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে।
স্ট্যাটাসে আরও উল্লেখ করা হয়, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ছড়ানো হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, একটি “পেইড ও গৃহপালিত মিডিয়া” ব্যবহার করে এসব প্রচারণা চালানো হয়। একই সময়ে সংশ্লিষ্ট এক ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব লন্ডনে গিয়ে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আসিফ আকবরের দাবি, ওই সফরের লক্ষ্য ছিল জয় শাহর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) প্রভাবিত করা। তিনি বলেন, “একটা কলার খোসা খুললেও যার খবর হয়, সেই লোকের গোপন লন্ডন সফরের কথা দেশের মানুষ জানেই না।”
এছাড়া তিনি বিসিবি নির্বাচন, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং তদন্ত কমিটির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে বোর্ড ভেঙে দিয়ে কিছু “নেপো কিডস” বিসিবির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
তবে পুরো লেখাজুড়ে তিনি বারবার উল্লেখ করেন, এত কিছুর পরও তিনি কারও নাম উল্লেখ করে প্রকাশ্যে হৈচৈ করেননি। বরং আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
স্ট্যাটাসের শেষদিকে তিনি লেখেন, “আমরা শিষ্টাচারে বিশ্বাসী। ভালোবাসা অবিরাম…”
আসিফ আকবরের এই স্ট্যাটাস প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
