সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
Logo
×

আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু

প্রথম সমাচার ডেস্ক ২৭ মে ২০২৬, ০২:০৭ অপরাহ্ন

রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। জন্মের পর তারা সবাই সুস্থ ছিল। পরে পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে অবস্থার অবনতি হলে নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ) নেওয়ার পর তাদের মৃত্যু হয়।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে সিজারের পর মা ও নবজাতকদের রাখা হয়। বাচ্চারা সুস্থ ছিল। রাতে কোনো এক বাচ্চার মা এসি বন্ধ রাখতে বলেছিল। অনেক সময় গরম বা ঠান্ডা লাগার কারণে চাহিদামতো এসি বন্ধ বা চালু রাখা হয়।

ডা. নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে দুটি বাচ্চা হঠাৎ একটু অসুস্থ হওয়ায় তাদেরকে এনআইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকরা তাদের অবস্থা ভালো দেখে পরে আবার ওয়ার্ডে ফেরত পাঠিয়ে দেন।

ডাক্তার-11
‘হত্যা মামলার ভয়ে স্বাস্থ্যখাতে নতুন উদ্যোক্তা আসছে না’
তিনি বলেন, পরে ভোর ৬টার দিকে দায়িত্বরত নার্স দেখেন যে ওয়ার্ডের বাচ্চাদেরকে অসুস্থ মনে হচ্ছে। এ সময় বাচ্চাদের মায়েরা একই কথা বলেন। পরে দ্রুত তাদেরকে এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। এ সময় দায়িত্বরত চিকিৎসকরা দুটি নবজাতককে ব্রট ডেড (আগেই মৃত) অবস্থায় পায়। বাকী চার নবজাতকও ক্রিটিক্যাল অবস্থায় ছিল। তাদেরকে দ্রুত ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দেওয়া হয়। কিন্তু তাদেরকে আর বাঁচানো যায়নি।

একত্রে ছয় শিশুর মৃত্যুর কারণ কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ঘটনা আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর। পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ড তিন ভাগে করা। ওই অংশে ছয় নবজাতক ও তাদের মায়েরা ছিল। অন্য কোনো ওয়ার্ডে এ ধরনের কিছু ঘটেনি। যেহেতু ওই রুমে কোনো ভেন্টিলেশন ছিল না, তাই হয়তো এসি বন্ধ রাখায় শ্বাসকষ্ট বা সাফোকেশনের কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ছয় নবজাতক শিশুসহ ১১ জন মা পোস্ট অপারেটিভ রুমে ছিলেন। ঠান্ডা অনুভূত হওয়ায় এসি বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেন এক নবজাতকের মা।

তিনি বলেন পরে নার্স এসি এক ঘণ্টার মতো বন্ধ রাখেন। এরপর গরম অনুভূত হওয়ায় এসি চালু করতে বললে দুই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পর বাকি চার শিশুও অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় শিশুর মৃত্যু হয়। এখানে সিআইডির ক্রাইম টিম কাজ করছে। আলামত সংগ্রহ করছে।

এর আগে, ডিএমপির রমনা বিভাগের উপপুলিশ (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা খবর পেয়েছি, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে শিশুদের মৃত্যু আসলে কী কারণ, তা আমরা এখনও জানি না। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। তদন্তের পর আসল তথ্য বলা যাবে।

একত্রে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে শোকবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ। এক শিশুর স্বজন জানান, তার নাতনিকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হলেও পরে তিনি জানতে পারেন, শিশুটি আর বেঁচে নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, রাতে ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্স ছিলেন না। বাচ্চারা সারারাত কান্না করছিল এবং একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ছিল।

সন্তান হারানো আরেক মা জানান, রাতে ওয়ার্ডের প্রায় সব শিশুই কান্না ও বমি করছিল। তারা কেউ বুঝতে পারেননি কী ঘটছে। সকালে শিশুর অবস্থা খারাপ হলে তাকে এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা প্রথমে আশ্বস্ত করলেও কিছু সময়ের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যুর খবর পান তারা।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...