গাড়ি থামতেই ছুটে এল কয়েকজন শিশু। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মুহূর্তেই জমে উঠল আড্ডা। তবে তাদের আসার উদ্দেশ্য শুধু কুশল বিনিময় নয়, ছিল একটি পুরোনো প্রতিশ্রুতি আদায়ের দাবি।
শিশুরা স্মরণ করিয়ে দেয়, রমজানে সব রোজা রাখলে বিশেষ উপহার দেওয়ার কথা বলেছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তারা এবার উপহার নিতে এসেছে।
প্রথমে রোজার সংখ্যা নিয়েই তৈরি হয় মজার পরিস্থিতি। এমপি জানতে চান, সত্যিই কি তারা ৩০টি রোজা রেখেছে? তখন দেখা যায়, চারজন শিশু দাবি করছে তারা ৩০ রোজাই রেখেছে। কিন্তু এবারের রমজান ছিল ২৯ দিনের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই এক শিশু বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর দেয়, “আমরা ৩০ রোজা বলতে বুঝি যতগুলো রোজা ছিল, সব রোজাই।”
শিশুর এই জবাবে উপস্থিত সবাই হাসিতে ফেটে পড়েন। পরে তাদের নিয়ে বসার ব্যবস্থা করা হয় এবং আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়। কোক, সিঙ্গাড়া ও কেকের আলোচনা শেষে শিশুদের প্রস্তাবে আইসক্রিম আনা হয়।
এরপর আসে মূল দাবি। ১১ সদস্যের শিশু দলের চাওয়া ছিল খুবই সাধারণ—এক জোড়া ফুটবল এবং ফুটবলপ্রেমী দলটির জন্য কয়েকটি জার্সি। তাদের মধ্যে দুইজন পর্তুগালের এবং বাকি নয়জন আর্জেন্টিনার সমর্থক হওয়ায় সেই অনুযায়ী জার্সির দাবিও জানানো হয়।
শিশুদের আবদারে সাড়া দিয়ে এমপি ফুটবল ও জার্সির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি বল কার বাড়িতে থাকবে, সে বিষয়েও শিশুদের মধ্যকার সম্ভাব্য বিরোধ মিটিয়ে দেন তিনি।
আইসক্রিম খাওয়া শেষে শিশুদের জানানো হয়, সন্ধ্যায় অথবা পরদিন এসে তারা ফুটবল ও জার্সি সংগ্রহ করতে পারবে।
স্থানীয়দের মতে, শিশুদের সঙ্গে জনপ্রতিনিধির এমন প্রাণবন্ত ও আন্তরিক মুহূর্ত এলাকায় ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
