এশিয়ান গেমস পুরুষ টি-টোয়েন্টি কোয়ালিফায়ারের সপ্তম ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে রেকর্ডগড়া এক বিশাল জয় পেয়েছে নেপাল। সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে আজ টসে জিতে প্রথমে নেপালকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় মালয়েশিয়া। তবে তাদের এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ভুল প্রমাণিত করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৭৫ রানের পাহাড়সম পুঁজি দাঁড় করায় নেপালি ব্যাটাররা। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে নেপালের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে মাত্র ১০৮ রানেই গুটিয়ে যায় মালয়েশিয়ার ইনিংস, যার ফলে ১৬৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় নেপাল।
নেপালের এই রানের পাহাড় গড়ার মূল কারিগর ছিলেন ওপেনার কুশল ভূর্তেল। ম্যাচজুড়ে মালয়েশিয়ার বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে মাত্র ৫৪ বলে ১২৬ রানের একটি বিধ্বংসী শতক উপহার দেন তিনি। তার এই দানবীয় ইনিংসে ছিল ১৪টি চার ও ৮টি ছক্কার মার। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন আরেক ওপেনার আসিফ শেখ, যিনি ২৪ বলে ৫টি চার ও ৭টি ছক্কার সাহায্যে ৬৮ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলেন। শেষদিকে দীপেন্দ্র সিং আইরি মাত্র ১১ বলে ৪টি ছক্কায় ৩১ রান করলে নেপালের সংগ্রহ পৌনে তিনশ ছুঁয়ে ফেলে। মালয়েশিয়ার বোলারদের মধ্যে সৈয়দ আজিজ এবং বিজয় উন্নি দুটি করে উইকেট নিলেও ছিলেন বেশ খরুচে।
২৭৬ রানের প্রায় অসম্ভব লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে মালয়েশিয়া। নেপালি বোলারদের তোপের মুখে কোনো ব্যাটারই ক্রিজে থিতু হতে পারেননি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন ওপেনার সৈয়দ আজিজ, যিনি ৪৫ বল খেলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান আসে শারভিন মুনিয়ান্দির (১৮) ব্যাট থেকে। এই দুজন ছাড়া আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের কোটা পার করতে না পারলে ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১০৮ রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস।
নেপালের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন শের মাল্লা, তিনি ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া অধিনায়ক বীরেন্দীপ সিং দারুণ বোলিং করে ২২ রানে ৩টি উইকেট নেন। দলের সেরা স্পিনার সন্দীপ লামিছানে ৪ ওভারে ১টি মেইডেনসহ মাত্র ১৪ রান খরচায় ১টি উইকেট তুলে নিয়ে মালয়েশিয়ার রানের গতি টেনে ধরেন। ম্যাচজয়ী অনবদ্য সেঞ্চুরির সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন কুশল ভূর্তেল।
