শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
Logo
×

‘ভারত-বাংলাদেশের আকাশ-মাটি এক নয়, ফয়সালা হয়েছে ১৯৪৭-এ’ — চট্টগ্রামে নাহিদ ইসলাম

প্রথম সমাচার ডেস্ক ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:২৮ অপরাহ্ন

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে আয়োজিত এগারো দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, জাতীয় বাজেট, ব্যাংকিং খাত এবং সংস্কার ইস্যুতে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক মর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে হতে হবে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, নদীতে বাঁধ নির্মাণ কিংবা সীমান্তে হত্যাকাণ্ড চলতে থাকলে প্রকৃত বন্ধুত্ব সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “ভারতের আকাশ আর বাংলাদেশের আকাশ এক নয়, ভারতের মাটি আর বাংলাদেশের মাটিও এক নয়। এ ফয়সালা ১৯৪৭ সালেই হয়ে গেছে। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। ১৯৭১ সালে সেই স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ২০২৪ সালে জনগণ আবারও স্পষ্ট করেছে—বাংলাদেশে কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির স্থান নেই।”

সরকার ঘোষিত নতুন বাজেটকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজেটে দুর্নীতি, লুটপাট ও ব্যাংক দখলের পথ বন্ধ করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। তার ভাষ্য, জনগণের কল্যাণে কত টাকা ব্যয় হবে আর কত টাকা রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের পকেটে যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

তিনি দাবি করেন, বর্তমান বাজেট দেশের অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে না এবং বিরোধী দলের সমালোচনা এ কারণেই অব্যাহত থাকবে।

বক্তব্যে ইসলামী ব্যাংককে আবারও এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে সরকারের অস্বীকৃতি সত্ত্বেও জনগণ বাস্তবতা জানে। যারা এ প্রক্রিয়াকে সমর্থন দিচ্ছেন, তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ খাতের ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপি নেতা। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় করা বিভিন্ন বিদ্যুৎ চুক্তি বহাল রাখার কারণেই জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাচ্ছে না। বিশেষ করে আদানি গ্রুপের সঙ্গে হওয়া বিদ্যুৎ চুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য পুলিশ, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর চাপ বৃদ্ধি এবং মতপ্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সরকার যদি স্বৈরতান্ত্রিক পথে অগ্রসর হয়, তবে জনগণও তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

তিনি নতুন করে স্বৈরতন্ত্রের উত্থান রোধে রাজনৈতিক দল ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ এগারো দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...