প্রথম স্ত্রীর তথ্য গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে বিয়ের আসরেই বিপাকে পড়েছেন নেত্রকোনার এক ছাত্রদল নেতা। কনের পরিবার আগের বিয়ের তথ্য জানতে পেরে বর ও বরযাত্রীদের আটকে রাখে। পরে স্থানীয়ভাবে সমঝোতার মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে তারা মুক্তি পান। ঘটনার পরদিন প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে হামলার অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্ত নেতা ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় ঘটেছে। অভিযুক্ত সাব্বির আহমেদ সাদান (২৮) মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের বাঘমারা গ্রামের বাসিন্দা এবং তিয়শ্রী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি। তিনি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আসাদুজ্জামান আজাদের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২২ সালে একই গ্রামের তরুণী আইমনা আক্তারকে গোপনে বিয়ে করেন সাদান। দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন রাখার পর সম্প্রতি প্রথম স্ত্রীর তথ্য আড়াল করে কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুরা ইউনিয়নের এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে বিয়ের আয়োজন করেন।
শুক্রবার (১২ জুন) বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়িতে পৌঁছানোর পর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই প্রথম স্ত্রী আইমনা আক্তার ফোন করে কনের পরিবারকে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের কথা জানান। বিষয়টি জানাজানি হলে কনেপক্ষ ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং বর ও বরযাত্রীদের আটকে রাখা হয়।
পরে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা বৈঠকের মাধ্যমে সমঝোতা হলে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা আদায়ের পর বরপক্ষকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এদিকে শনিবার সকালে প্রথম স্ত্রী আইমনা আক্তারের বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে সাদান ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। হামলায় আইমনার বড় বোন সুমনা আক্তার আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
কনের বাবা ও পাইকুরা ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি শাহজাহান মিয়া বলেন, “ছেলেটি আগে বিবাহিত—এ তথ্য আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি জানার পর আমরা বিয়ে বন্ধ করে দিই।”
অভিযুক্তের বাবা ও মদন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আসাদুজ্জামান আজাদ বলেন, “আমার ছেলে আগে বিয়ে করেছে, সেটি আমিও জানতাম না। আগে জানলে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না।”
মদন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অসীম কুসার দাস জানান, ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এক নারীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
