যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইরান। একই সঙ্গে চলমান সংকট নিরসনে চীনের যেকোনো মধ্যস্থতা বা কূটনৈতিক সহায়তাকে স্বাগত জানাবে বলেও জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
শুক্রবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আবারও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বার্তা পেয়েছে তেহরান।
আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সংলাপ ও পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে চায়। ইরানও কূটনৈতিক পথ খোলা রাখতে আগ্রহী।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে সহায়তার আগ্রহ দেখিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানকে সামরিক সহায়তা না দেওয়ার বিষয়েও চীনের অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে তেহরানের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। তাই বেইজিং যদি কূটনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে চায়, তাহলে তা ইতিবাচকভাবেই দেখবে ইরান।
এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। দ্রুত সংকট সমাধান শুধু দুই দেশের জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চল ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আরাগচি আরও জানান, পাকিস্তান ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। তবে প্রথম দফার আলোচনা থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা আসেনি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
