বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
Logo
×

ইহরাম বাঁধার নিয়ম

প্রথম সমাচার ডেস্ক ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ন
ইহরাম অর্থ হলো কোনো জিনিসকে নিজের ওপর হারাম বা নিষিদ্ধ করে নেওয়া। হজ বা ওমরাহ পালনকারী ব্যক্তি ইহরামের মাধ্যমে নিজের ওপর কিছু বিষয়কে হারাম করে নেয়। এজন্য একে ইহরাম বলা হয়।

হজ ও ওমরাহ পালনের নিয়তে যারা মক্কার উদ্দেশে গমন করেন, তাদের মিকাত (নির্ধারিত স্থান) অতিক্রম করার আগে ইহরামের কাপড় পরে নিতে হয়। ইহরাম না পরে মিকাত অতিক্রম করা জায়েজ নয়। নামাজের জন্য যেভাবে তাকবিরে তাহরিমা বাঁধা হয় ঠিক তেমনি হজের জন্য ইহরাম বাধা হয়।

আর নামাজে যেমন তাকবিরে তাহরিমার মাধ্যমে স্বাভাবিক সময়ের অন্য হালাল ও বৈধ কাজগুলো নামাজি ব্যক্তির জন্য হারাম হয়ে যায়। ইহরামের মাধ্যমেও হজ ও ওমরাহ পালনকারী ব্যক্তির জন্যও স্বাভাবিক অবস্থার অনেক হালাল কাজও হারাম হয়ে যায়।

পুরুষদের জন্য সেলাইবিহীন দুই টুকরো সাদা কাপড় আর নারীদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময় শালীন পোশাক পরিধান করাই হলো ইহরাম।
ইহরাম বাঁধার আগে গোঁফ, বগল ও নাভীর নিচের ক্ষৌর কার্য সম্পন্ন করা, নখ কাটা, গোসল বা অজু করে পাক সাফ হয়ে যাওয়া আবশ্যক। এমনকি ঋতুবর্তী নারীদেরও এ সময় গোসল করা মুস্তাহাব। ইহরাম বাঁধার আগে সুগন্ধি ব্যবহার করাও মুস্তাহাব। তবে ইহরামের কাপড়ে আতর বা সুগন্ধি লাগাবে না। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৮৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২২২)

মিকাতের নির্ধারিত স্থান থেকে অথবা মিকাতের আগেই ইহরামের কাপড় পরতে হয়। এসময় পুরুষেরা দুটি নতুন বা পরিষ্কার সাদা চাদর নেবে। একটি লুঙ্গির মতো করে পরবে। অন্যটি চাদর হিসাবে ব্যবহার করবে। পুরুষরা ইহরামের কাপড় সুবিধা মতো উপায়ে পরতে পারে। তবে এমনভাবে পরবে, যাতে নাভির ওপর থেকে হাটুর নিচ পর্যন্ত আবৃত হয়ে যায় এবং ইহরামের কাপড় দিয়ে কাঁধ ও শরীর আবৃত থাকে। নারীরা মুখমণ্ডল ও হাতের কব্জি খোলা রাখবে। নেকাব বা বোরকা দ্বারা মুখমণ্ডল সবসময় ঢাকা রাখা যাবে না।

পায়ের পাতার উপরের অংশ খোলা থাকে এমন জুতা বা স্যাণ্ডেল পরবে। নারীরা স্বাভাবিক কাপড় পরবে। তাদের জন্য ইহরাম অবস্থায় জুতা-মোজা পরার অবকাশ আছে।

মাকরুহ ওয়াক্ত না হলে ইহরাম বাঁধার আগে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়বে। অতঃপর যে হজ বা ওমরাহর অনুযায়ী নিয়ত অনুযায়ী তালবিয়া পাঠ করবে।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...