বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
Logo
×

জান্নাতি পাথর হাজরে আসওয়াদ

প্রথম সমাচার ডেস্ক ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ন
কাবাঘরের দেয়ালে বিশেষভাবে স্থাপনকৃত একটি পাথরের নাম হাজরে আসওয়াদ’। আরবি হাজর’ শব্দের অর্থ পাথর আর আসওয়াদ’ শব্দের অর্থ কালো। অর্থাত্ কালো পাথর। হাজরে আসওয়াদ’  বেহেশতের মর্যাদাপূর্ণ একটি পাথর। হজযাত্রীরা হজ করতে গিয়ে এতে সরাসরি বা ইশারার মাধ্যমে চুম্বন দিয়ে থাকেন।

হাজরে আসওয়াদের কিছু বৈশষ্ট্যি
হাদিসের গ্রন্থগুলোতে হাজরে আসওয়াদের বৈশষ্ট্যি সম্পর্কে প্রচুর আলোচনা এসেছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, হাজরে আসওয়াদ একটি জান্নাতি পাথর, তার রং দুধের চেয়ে বেশি সাদা ছিল। এরপর বনি আদমের পাপরাশি এটিকে কালো বানিয়ে দিয়েছে।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৮৭৭)
অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হাজরে আসওয়াদ জান্নাতেরই একটি অংশ।’ (ইবনে খুজায়মা, ৪/২২০)

হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করার ফজিলত
হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা বরকতময়। রাসুল (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের দিন এ পাথরটি আবু কুবাইস পাহাড় থেকে বড় আকার ধারণ করে উপস্থিত হবে। তার একটি জিহ্বা ও দুইটি ঠোঁট থাকবে, (বায়তুল্লাহর জিয়ারতকারীরা) কে কোন নিয়তে তাকে চুম্বন করেছে, সে সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে।’ (ইবনে খুজায়মা : ৪/২২১, মুসতাদরাকে হাকেম : ১/৪৫৭)।

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-কে হাজরে আসওয়াদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.) কে তা স্পর্শ ও চুম্বন করতে দেখেছি।’ (মুসলিম, হাদিস : ১২৬৭)

হাজরে আসওয়াদের ঐতিহাসিক তথ্য
ইসলামপূর্ব কোরাইশদের যুগে কাবা শরিফের গিলাফ যখন পুড়ে গিয়েছিল, তখন হাজরে আসওয়াদও পুড়ে গিয়েছিল। ফলে তার কৃষ্ঞতা আরো বৃদ্ধি পায়। রাসুলের নবুয়তপূর্ব সময়ে কাবা পুননির্মাণের পর হাজরে আসওয়াদ আগের স্থানে কে বসাবেনএটা নিয়ে কোরাইশদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বেধেছিল।

তখন মহানবী (সা.) নিজের গায়ের চাদর খুলে তাতে হাজরে আসওয়াদ রেখে সব গোত্রপ্রধানকে চাদর ধরতে বলেন। গোত্র প্রধানরা চাদরটি ধরে কাবা চত্বর পর্যন্ত নিয়ে গেলে নবী করিম (সা.) নিজ হাতে তা কাবার দেয়ালে স্থাপন করেন এবং দ্বন্দ্বের পরিসমাপ্তি ঘটান।

আবদল্লাহ ইবনে জুবাইর (রা.)-এর শাসনামলে হাজরে আসওয়াদ ভেঙে তিন টুকরো হয়ে গিয়েছিল। ফলে তিনি তাকে রুপা দিয়ে বঁাধাই করেছেন। আর তিনিই সর্বপ্রথম হাজরে আসওয়াদকে রুপা দিয়ে বাঁধানোর সেৌভাগ্য অর্জনকারী।

১৭৯ হিজরিতে আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদ হাজরে আসওয়াদকে হিরা দিয়ে ছিদ্র করে রুপা দিয়ে ঢালাই করেন।

৩১৭ হিজরিতে কারামতিয়ারা হারাম শরিফে অতর্কিত আক্রমণ করে হাজরে আসওয়াদ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে ৩৩২ হিজরিতে ফিরিয়ে এনে চুনা দিয়ে তার চারপাশ এঁটে দেওয়া হয়।

৪১৩ হিজরিতে এক নাসি্তক লেৌহ শলাকা দ্বারা হাজরে আসওয়াদের ওপর হামলে পড়ে। ফলে তা ছিদ্র হয়ে যায়। এরপর বনি শায়বার কিছু লোক তার ভগ্নাংশগুলোকে একত্রিত করে কস্তুরী দ্বারা ধেৌত করে তার টুকরোগুলো ফের জোড়া লাগিয়ে দেয়।

১৩৩১ হিজরিতে সুলতান মুহাম্মদ রাশাদ হাজরে আসওয়াদের চারপাশে রুপার একটি নতুন বষ্টেনী তৈরি করে দেন।

১৩৫১ হিজরির এপ্রিলের ১৮ তারিখে বাদশাহ আবদুল আজিজ বিশষ্টি ব্যক্তি ও আলেম-ওলামাসহ কাবা শরিফে উপস্থিত হন এবং হাজরে আসওয়াদের অবস্থান সুদৃঢ় করার জন্য তাতে মেশকে আম্বরের মতো মূল্যবান পাথর সংযুক্ত করেন।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...