যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর এবং যাকে চাও লাঞ্ছিত কর। সমস্ত কল্যাণ তোমারই হাতে। নিশ্চয়ই তুমি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ২৬)
তাই মহান আল্লাহ কাউকে নেতৃত্বের নিয়ামত দিলে, তাদের উচিত তঁার শোকর আদায় করা। তাকে ভয় করা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করা। পবিত্র কোরআনে মহান আাল্লাহ অনুসারীদের সঙ্গে বিনম্র আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
ইরশাদ হয়েছে,, `যে সকল বিশ্বাসীরা তোমার আনুগত্য করে তাদের জন্য তুমি তোমার অনুকম্পার বাহু প্রসারিত কর।’ (সুরা : শুআরা, আয়াত : ২১৫)
যেসব নেতারা তাদের অনুসারীদের প্রতি সদয় হয়, মহানবী (সা.) তাদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন। আয়েশা (রা.) বলেন, আমি মহানবী (সা.)-কে আমার ঘরে বলতে শুনেছি, (তিনি বলেছিলেন) হে আল্লাহ! যে আমার উম্মতের কোনো রূপ কর্তৃত্বভার লাভ করে এবং তাদের প্রতি রূঢ় আচরণ করে তুমি তার প্রতি রূঢ় হও, আর যে আমার উম্মাতের উপর কোনো রূপ কর্তৃত্ব লাভ করে তাদের প্রতি নম্র আচরণ করে তুমি তার প্রতি নম্র ও সদয় হও।’ (মুসলিম, হাদিস : ৪৬১৬)
এই হাদিস মুমিনদের জন্য গভীর শিক্ষা রয়েছে। কঠোরতা হয়তো সাময়িকভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারে, কিন্তু তা মানুষের অন্তরে স্থায়ী বিদ্বেষের জন্ম দেয়। পক্ষান্তরে নম্রতা মানুষের হূদয়ে স্থান করে নেয়, যা নেতৃত্বকে ভিতর থেকে শক্তিশালী করে। একজন নম্র নেতা তার অনুসারীদের ভালোবাসা, দোয়া ও সমর্থন লাভ করেন যা বাহ্যিক ক্ষমতার চেয়ে অধিক কার্যকর।
নেতা ও অনুসারীদের মধ্যে পারস্পরিক সহানুভূতি থাকলে তাদের কাজে মহান আল্লাহর রহমত নাজিল হয়। ফলে নেতৃত্ব হয় কল্যাণময় ও স্থিতিশীল। কিন্তু যখন এই সহানুভূতি উঠে যায়, তখন কাজের মধ্যে বরকত থাকে না, বিভেদ সৃষ্টি হয়, এবং নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়ে।
এই আয়াত স্পষ্টভাবে দেখায়, নমনীয়তা নেতৃত্বকে কীভাবে দৃঢ় করে। মহানবী (সা.)-এর মতো সর্বশ্রেষ্ঠ নেতার ক্ষেত্রেও আল্লাহ তাআলা কোমলতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। অর্থাত্ মানুষের অন্তর জয় না করে কোনো নেতৃত্ব টেকসই হয় না।
তাই কাউকে মহান আল্লাহ নেতৃত্বের নিয়ামত দান করলে তার উচিত এর যথাযথ মূল্যায়ন করা এবং অনুসারীদের সঙ্গে সদয় আচরণ করা। অহংকার না করা। কাউকে তুচ্ছ করে কথা বলার চষ্টো না করা।
নম্রতা, সহানুভূতি ও মানবিকতার গুণে গুণান্বিত হওয়া। তাহলে ইনশাআল্লাহ সেই নেতৃত্ব কল্যাণময়, স্থিতিশীল ও সফল হবে।
