শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
Logo
×
বাজেট ২৬-২৭

এক নজরে ২০২৬-২৭ বাজেট

প্রথম সমাচার ডেস্ক ১২ জুন ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন

বাজেটের সামগ্রিক আকার ও প্রেক্ষাপট

দীর্ঘ ২০ বছর পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বিএনপির প্রথম বাজেট পেশ করেন।

২০২৬ সালের ১১ জুন উপস্থাপিত এই বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩০ thousand কোটি টাকারও বেশি, যেখানে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬.৫ শতাংশ। দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়নের চাকা সচল করার লক্ষ্য নিয়ে এই বিশাল বাজেটের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ও আয়ের উৎস

বাজেটের বিশাল ব্যয়ভার মেটাতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রধান উৎস হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে কর আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকার তুলনায় একটি বড় লাফ।

এছাড়া এনবিআর বহির্ভূত খাত থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং কর ব্যতীত অন্যান্য রাজস্ব খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)

এবারের বাজেটে উন্নয়ন খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। এই উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে ১,২৭৭টি নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করা হয়েছে।

পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) ৮০টি এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অধীনে ১৪৮টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ বরাদ্দ

মানবসম্পদ ও সামাজিক সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন কাজে মোট ৮৩,৫৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট এডিপির এক-চতুর্থাংশেরও বেশি।

বিগত অর্থবছরে এই দুই খাতে সম্মিলিত বরাদ্দ যেখানে ছিল মাত্র ৪৫,৮২২ কোটি টাকা, সেখানে এবার শুধু স্বাস্থ্য খাতের এডিপি বরাদ্দই বাড়িয়ে ৩৫,৫৩০ কোটি টাকা করা হয়েছে। তবে এই বিশাল বরাদ্দ মাঠপর্যায়ে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হবে।

করমুক্ত আয়সীমা ও করকাঠামো

মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও চাকরিজীবীদের স্বস্তি দিতে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বর্তমানের চেয়ে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

একই সাথে কর ব্যবস্থায় এক ধরনের ধারাবাহিকতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত করমুক্ত আয়সীমার একটি দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপও এই বাজেট বক্তৃতায় উন্মোচন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শুল্ক পুনর্বিন্যাস ও কর প্রণোদনা

পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে সবুজ শিল্প, ডিজিটাল উদ্যোক্তা এবং দেশীয় প্রযুক্তি উৎপাদনকারীদের জন্য বিশেষ কর প্রণোদনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জনসাধারণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও স্বাস্থ্যসেবা সামগ্রীতে শুল্ক ও কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিপরীতে, ধূমপান নিরুৎসাহিত করতে তামাকজাত পণ্য, পরিবেশ সুরক্ষায় প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত যানবাহন এবং নির্দিষ্ট কিছু আমদানিকৃত বিলাসবহুল পণ্যের ওপর করের বোঝা বাড়ানো হয়েছে।

মূল চ্যালেঞ্জ ও সংস্কার অগ্রাধিকার

এই বাজেট এমন এক সময়ে এলো যখন দেশের মূল্যস্ফীতি ৯.০৪ শতাংশে পৌঁছেছে এবং বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি মাত্র ৪.৭ শতাংশে নেমে আসায় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান থমকে আছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাজেটের মূল সংস্কার অগ্রাধিকার হিসেবে রাখা হয়েছে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, সরকারি ভর্তুকি কমিয়ে আনা, রাজস্ব শৃঙ্খলা জোরদার করা এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে বাজারভিত্তিক নমনীয়তা ফিরিয়ে আনা।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...