সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
Logo
×
হামাস নিরস্ত্র না হলে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য নয় ইসরায়েল

গাজা যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তি পরিকল্পনায় নতুন মোড়

প্রথম সমাচার ডেস্ক ০৬ মে ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন

গাজা যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক শান্তি কাঠামো “Board of Peace” নতুন এক কঠোর অবস্থান নিয়েছে। হামাস নিরস্ত্রীকরণে সম্মত না হলে ইসরায়েলকে ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলতে বাধ্য করা হবে না—এমন ইঙ্গিত উঠে এসেছে সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ নথিতে।

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে হামাস যদি যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে কিংবা অস্ত্র সমর্পণে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে ইসরায়েলের ওপর সামরিক অভিযান সীমিত রাখা, পূর্ণমাত্রায় মানবিক সহায়তা প্রবাহ নিশ্চিত করা কিংবা যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের কিছু বাধ্যবাধকতা বজায় রাখার চাপ আর থাকছে না।

মার্কিন-সমর্থিত এই পরিকল্পনার কেন্দ্রীয় শর্ত হলো—গাজার পুনর্গঠন, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস এবং ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার—সবকিছুই হামাসের সামরিক সক্ষমতা ভেঙে ফেলার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। প্রস্তাবিত নথি অনুযায়ী, হামাসকে কয়েক মাসের মধ্যে অস্ত্র জমা দেওয়া, সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংসে সম্মতি এবং গাজার নিরাপত্তা কাঠামো আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ছেড়ে দিতে হবে।

কিন্তু হামাস এই শর্তকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির অবস্থান হলো—নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনায় যাওয়ার আগে ইসরায়েলকে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে গাজা থেকে সেনা উপস্থিতি কমানো, মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন সামগ্রী প্রবেশে বাধা প্রত্যাহার এবং বন্দি বিনিময় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া। হামাস নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক সমাধান ও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রূপরেখা ছাড়া অস্ত্র সমর্পণের প্রশ্নই ওঠে না।

এই অচলাবস্থার মধ্যেই ইসরায়েলি নিরাপত্তা মহলে যুদ্ধ পুনরায় জোরদারের আলোচনা শুরু হয়েছে। ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা সূত্রে জানা গেছে, হামাস যদি নিরস্ত্রীকরণে অনড় থাকে, তাহলে গাজায় পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান আবারও শুরু করার বিকল্প খোলা রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে বাস্তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় সহিংসতা থেমে নেই। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। ফলে নতুন এই শর্ত আরোপ যুদ্ধবিরতিকে কার্যত ভঙ্গুর করে তুলেছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “Board of Peace”-এর এই অবস্থান মূলত একটি বার্তা—গাজার পুনর্গঠন আর কেবল মানবিক ইস্যু নয়, এটি এখন সরাসরি নিরাপত্তা ও নিরস্ত্রীকরণ-নির্ভর রাজনৈতিক প্রকল্প। কিন্তু হামাস অস্ত্র ছাড়তে না চাইলে এবং ইসরায়েল পূর্ণ যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি না দিলে পুরো প্রক্রিয়াই নতুন সংঘাতে গড়াতে পারে।

সব মিলিয়ে, গাজা যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তির স্বপ্ন এখন দাঁড়িয়ে আছে একটি মাত্র প্রশ্নে—প্রথমে অস্ত্র নামাবে কে, আর ছাড় দেবে কে? সেই উত্তর না মিললে মধ্যপ্রাচ্যে আরেক দফা বড় রক্তক্ষয়ের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...