মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
Logo
×

জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগ: তথ্য উপদেষ্টা

প্রথম সমাচার ডেস্ক ১৬ জুন ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ন

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য সহজলভ্য, আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

তিনি জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি দেশের ১০টি জেলা হাসপাতালে আধুনিক আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) সেবা চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আওতায় হাসপাতালগুলোতে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রতিটি আইসিইউ ইউনিটে শিশুদের জন্য বিশেষ পেডিয়াট্রিক ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তিনি আরও জানান, উপজেলা হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে চিকিৎসার জন্য রাজধানী বা বিভাগীয় শহরে ছুটে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে এবং স্থানীয় পর্যায়েই মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা পাবে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, একজন সাধারণ রোগী চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী শহরে গেলে চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি যাতায়াত, আবাসন ও অন্যান্য খরচও বহন করতে হয়। স্থানীয় পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হলে এই অতিরিক্ত ভোগান্তি ও ব্যয় অনেকাংশে কমে আসবে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে আরও জনমুখী করতে সরকার প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপরও জোর দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় একটি নতুন পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের বিশেষায়িত হাসপাতালে রেফার করবেন।

ডা. জাহেদ উর রহমানের মতে, অনেক রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে জটিলতা ও চিকিৎসা ব্যয় দুটিই কমানো সম্ভব। এজন্য সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারের স্বাস্থ্যনীতি এখন শুধু রোগের চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং রোগ প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জনগণের আস্থা ধরে রাখতে এবং সেবার মান উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে।

তথ্য উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, চলমান উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও উন্নত চিকিৎসাসেবার সুযোগ পাবে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও জনবান্ধব হয়ে উঠবে।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...