বগুড়ায় নবগঠিত তিনটি ইউনিয়নের নামকরণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন ইউনিয়নগুলোর নাম রাখা হয়েছে ‘মীরবাড়ি’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’। বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য দাবি করেছেন, এসব নামের সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে।
সংসদে উত্থাপিত অভিযোগে বলা হয়, ‘মীরবাড়ি’ নামটি প্রতিমন্ত্রীর পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। একইসঙ্গে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নাম দুটি তার দুই সন্তানের নামের সঙ্গে মিলে যায়। ফলে ইউনিয়নগুলোর নামকরণে ব্যক্তিগত প্রভাব থাকতে পারে বলে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ইউনিয়নের নামগুলোর সঙ্গে তার পরিবারের নামের মিল থাকলেও এটি সম্পূর্ণ কাকতালীয়।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, তার সন্তানদের নাম ‘মীর সীমান্ত’ ও ‘মীর দিগন্ত’। যদি ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য থাকত, তাহলে ইউনিয়নের নামের আগে ‘মীর’ যুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বলা হতো। কিন্তু বাস্তবে এমন কিছু ঘটেনি।
তিনি আরও জানান, নতুন ইউনিয়নগুলোর নাম নির্ধারণে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ স্থানীয় পর্যায়ে যাচাই-বাছাই, মতামত গ্রহণ ও গণশুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় একটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে ‘সীমান্ত’। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী অবস্থানের কারণে আরেকটির নামকরণ করা হয়েছে ‘দিগন্ত’। ‘মীরবাড়ি’ নামটিও স্থানীয় ঐতিহাসিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নির্বাচন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই নামগুলোর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের নামের মিল নিয়ে নানা মন্তব্য করছেন। আবার কেউ কেউ প্রশাসনের নাম নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নামকরণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা ব্যক্তিগত প্রভাবের অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি।
