নির্বাচনী হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদকে নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির নেতা রাশেদ খান দাবি করেছেন, একটি টেলিভিশন টকশোতে দেওয়া বক্তব্যে হান্নান মাসউদ নিজেই হলফনামায় সঠিক তথ্য না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, হলফনামায় ভুল বা অসত্য তথ্য প্রদান করলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তা তদন্তের আওতায় আসতে পারে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে একজন সংসদ সদস্যের পদ বহাল থাকবে কি না।
তার দাবি, হান্নান মাসউদ পূর্বে দাখিল করা হলফনামায় নিজের স্থাবর সম্পদের বিষয়ে যে তথ্য দিয়েছেন, তা পরবর্তী বিভিন্ন বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নজর দেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খান তার বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের এক কমিশনারের পূর্বের মন্তব্যও উল্লেখ করেন। সেখানে বলা হয়েছিল, কোনো প্রার্থী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও তদন্ত করা যেতে পারে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এদিকে হান্নান মাসউদের বিভিন্ন সময়ে দেওয়া আর্থিক অবস্থা সম্পর্কিত বক্তব্যও আলোচনায় এসেছে। রাশেদ খানের দাবি, নিজের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা প্রকাশ্যে বললেও সেই তথ্যগুলোর প্রতিফলন হলফনামায় দেখা যায়নি।
তবে এ বিষয়ে হান্নান মাসউদ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই বা তদন্ত সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্তও এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।
রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চললেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশনের তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার ওপর।
