২০২৬ সালের ১৪ জুন ফিফা বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে সুইডেন জাতীয় ফুটবল দল। মাঠজুড়ে দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে তিউনিসিয়াকে কোণঠাসা করে এই বড় জয় তুলে নেয় সুইডিশরা। তবে ম্যাচ ছাড়িয়ে সব আলো কেড়ে নিয়েছেন সুইডেনের বদলি মিডফিল্ডার মাটিয়াস সভানবার্গ, যিনি মাঠে নামার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মাথায় গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে দ্রুততম গোলের এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়ে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হয়েছেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে সুইডেন। যার ফলশ্রুতিতে ম্যাচের ৭ম মিনিটেই ব্রাইটনে খেলা সুইডিশ মিডফিল্ডার ইয়াসিন আয়ারির দুর্দান্ত এক গোলে এগিয়ে যায় দল। শুরুর এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই তিউনিসিয়াকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিতে আক্রমণ বাড়ায় সুইডেন। ম্যাচের ৩০তম মিনিটে আলেকসান্দার ইসাক এবং ৫৯তম মিনিটে ভিক্টর ইয়োকেরেসের চমৎকার দুটি গোলে ৩-০ ব্যবধানে লিড নেয় সুইডিশরা। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে ৪৩ মিনিটে তিউনিসিয়ার পক্ষে ওমর রেকিক একটি গোল শোধ করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-১।
খেলার ৮৪তম মিনিটে ঘটে সেই ঐতিহাসিক ও নাটকীয় ঘটনা, যা ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘদিন মনে থাকবে। সুইডেনের মিডফিল্ডার মাটিয়াস সভানবার্গ বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ান। শুরুতে রেফারি এটিকে অফসাইড ঘোষণা করলেও ভিএআর (VAR)-এর সাহায্য নেওয়া হয়। ক্রিকেটে বহুল ব্যবহৃত ‘স্নিকো’ প্রযুক্তির মতো ফুটবল প্রযুক্তিতে দেখা যায়, বলটি সভানবার্গের কাছে পৌঁছানোর আগে আলেকসান্দার ইসাকের বুটের আগা ছুঁয়ে গিয়েছিল। খালি চোখে ধরা না পড়লেও প্রযুক্তির সূক্ষ্ম বিচারে গোলটি বৈধ বলে গণ্য হয়।
এই ঐতিহাসিক গোলের সময় নির্ধারণ নিয়ে ফুটবল বিশ্বে বেশ নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। বিখ্যাত গণমাধ্যম বিবিসি লাইভের তথ্য অনুযায়ী, সভানবার্গ মাঠে প্রবেশ করার মাত্র ১২ সেকেন্ডের মাথায় এই গোলটি করেছেন, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে বদলি নামা কোনো খেলোয়াড়ের দ্রুততম গোল। তবে ফুটবলের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপটা বলছে গোলটি হয়েছে ১৮ সেকেন্ডে (যা দ্বিতীয় দ্রুততম) এবং ইএসপিএনের মতে সময়টি ছিল ১৬ সেকেন্ড। ২০০২ বিশ্বকাপে সেনেগালের বিপক্ষে উরুগুয়ের রিচার্ড মোরালেসের ১৬ সেকেন্ডের রেকর্ডটি ভাঙল কি না, তা চূড়ান্ত করতে ফিফার আনুষ্ঠানিক রিপোর্টের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সভানবার্গের এই রেকর্ড গড়া গোলের পর ম্যাচের যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে (৯৬ মিনিটে) নিজের দ্বিতীয় ও দলের পঞ্চম গোলটি করেন ম্যাচের প্রথম গোলদাতা ইয়াসিন আয়ারি। তার এই জোড়া গোল এবং ইসাক, ইয়োকেরেস ও সভানবার্গের ১টি করে গোলের ওপর ভর করেই ৫-১ ব্যবধানের বিশাল জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে সুইডেন। তিউনিসিয়ার একমাত্র সান্ত্বনা হয়ে থাকে ওমর রেকিকের গোলটি।
এই বিধ্বংসী জয়ের ফলে ৩ পয়েন্ট এবং গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ‘এফ’ গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করেছে সুইডেন। এই গ্রুপের অন্য রোমাঞ্চকর ম্যাচে নেদারল্যান্ডস ও জাপান ২-২ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী ২০ জুন শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে উড়তে থাকা সুইডেন, আর পরের দিন ২১ জুন প্রথম জয়ের খোঁজে জাপানের মুখোমুখি হবে বিধ্বস্ত তিউনিসিয়া।
