২০২৬ সালের ১৪ জুন বার্মিংহামের ঐতিহ্যবাহী এজবাস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের পঞ্চম ম্যাচে নেদারল্যান্ডস নারী দলকে ৬ উইকেটে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল। শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াইয়ের পর ৫ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে বিশ্বমঞ্চে শুভসূচনা করল টাইগ্রেসরা। ম্যাচের শুরুতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেওয়া উদ্বোধনী ব্যাটার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরা (প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ) নির্বাচিত হয়েছেন।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন নেদারল্যান্ডস নারী দলের অধিনায়ক বাবেট ডি লিডে। টুর্নামেন্টে নিজেদের অভিষেক ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখতে স্কোরবোর্ডে বড় পুঁজি গড়াই ছিল ডাচদের লক্ষ্য। তবে বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত ও দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে শুরুতেই বেশ চাপে পড়ে যায় তারা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই মারুফা আক্তারের বলে উইকেটরক্ষক নিগার সুলতানার হাতে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ১১ রানে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার ফিবি মোলকেনবোয়ার।
এরপর দ্বিতীয় উইকেটে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন হিদার সিজার্স। তবে ৪.৬ ওভারে ফারিয়া তৃষ্ণার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ১৬ রানে বিদায় নেন তিনি। ডাচদের এই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝেও এক প্রান্ত আগলে রেখে অধিনায়কোচিত এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন বাবেট ডি লিডে। তিনি ৪৫ বলে ৫টি চারের সাহায্যে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন। লঙ্কানদের মতোই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো নেদারল্যান্ডস শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৯ রানের একটি লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায়। শেষদিকে আইরিস জুইলিং ১১ বলে ১৩ এবং সিলভার সিজার্স ৮ বলে ১০ রান করে অপরাজিত থাকেন।
নেদারল্যান্ডসকে অল্প রানে আটকে রাখার পেছনে অনন্য ভূমিকা পালন করেন বাংলাদেশের বোলাররা। ডানহাতি পেসার মারুফা আক্তার ৪ ওভারে ৩১ রান খরচ করে একাই শিকার করেন ২টি উইকেট। এছাড়া স্পিন আক্রমণে রাবেয়া খান তার প্রথম বলেই স্টেরে কালিসকে (৪) বোল্ড করে নিজের ৫০তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। রিতু মনি মাত্র ১৭ রানে ১টি, সানজিদা আক্তার মেঘলা ২৯ রানে ১টি এবং ফারিয়া তৃষ্ণা ৩২ রানে ১টি করে উইকেট নেন। এছাড়া দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের সৌজন্যে স্বর্ণা আক্তার ২টি মূল্যবান রান আউট করেন।
১৪০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও দিলারা আক্তার। প্রথম দুই ওভার কিছুটা দেখেশুনে খেললেও তৃতীয় ওভার থেকেই হাত খোলেন জুয়াইরিয়া। উদ্বোধনী জুটিতে তারা দুজনে গড়েন ৬৭ রানের দুর্দান্ত পার্টনারশিপ। দিলারা ২৩ বলে ২৬ রান করে সিলভার সিজার্সের বলে আউট হন। অন্যদিকে জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ক্যারোলিন ডি ল্যাঙ্গেকে ছক্কা মেরে মাত্র ৩২ বলে নিজের দুর্দান্ত অর্ধশতক পূর্ণ করেন। তবে ঠিক তার পরের বলেই তিনি ক্যাচ আউট হয়ে বিদায় নেন। তার ৩৩ বলের ঝড়ো ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ২টি ছক্কা।
জুয়াইরিয়া আউট হওয়ার পরের বলেই অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি শূন্য রানে বিদায় নিলে এবং কিছুক্ষণ পর সোবহানা মোস্তারি ৪ রানে রান আউট হলে ৮৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। তবে পঞ্চম উইকেটে দলের হাল ধরেন শারমিন আক্তার সুপ্তা এবং স্বর্ণা আক্তার। তারা দুজনে মিলে মাত্র ৪৩ বলে ৫৬ রানের একটি অবিচ্ছিন্ন ও দায়িত্বশীল জুটি গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। শারমিন ৩২ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ৩৭ রানে এবং স্বর্ণা ১৭ বলে ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন। ডাচ বোলার ক্যারোলিন ডি ল্যাঞ্জে ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ২টি উইকেট শিকার করলেও বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত জয় পায় টাইগ্রেসরা।
