২০২৬ সালের ১৫ জুন জ্যামাইকার সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ও নির্ধারণী টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৫ উইকেটে পরাজিত করেছে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শ্বাসরুদ্ধকর এই জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিল ক্যারিবীয়রা। ম্যাচে বল হাতে দুর্দান্ত তাণ্ডব চালিয়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার শামার জোসেফ ম্যাচসেরা (প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ) নির্বাচিত হয়েছেন।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল। পিচের কন্ডিশনকে কাজে লাগিয়ে লঙ্কান ব্যাটারদের চেপে ধরাই ছিল স্বাগতিকদের মূল লক্ষ্য। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কার উদ্বোধনী ব্যাটার পাথুম নিসাঙ্কা ১৭ বলে ২৬ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দেন। তবে ইনিংসের মাঝপথে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা।
লঙ্কানদের এই বিপর্যয় কাটাতে মিডল অর্ডারে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন কামিল মিশারা এবং দুনিথ ভেল্লালাগে। মিশারা ২৩ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৮ রান করেন। তবে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে কার্যকরী ইনিংসটি খেলেন তরুণ অলরাউন্ডার দুনিথ ভেল্লালাগে; তিনি মাত্র ২৮ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৪৩ রানের একটি লড়াকু ইনিংস উপহার দেন। শেষদিকে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার ১৩ বলে ২১ রানের ক্যামিও ইনিংসে ভর করে ২০ ওভারে ১৬৯ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা।
শ্রীলঙ্কাকে কম রানে বেঁধে রাখার পেছনের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডানহাতি ফাস্ট বোলার শামার জোসেফের। তিনি তার কোটার ৪ ওভারে মাত্র ৩৩ রান খরচ করে একাই শিকার করেন ৫টি উইকেট, যা লঙ্কানদের বড় স্কোরের স্বপ্ন ভেঙে দেয়। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে আকিল হোসেন ৩১ রানে, রোস্টন চেজ ৩২ রানে, জেসন হোল্ডার ৩৩ রানে এবং ম্যাথু ফোর্ড ৩৯ রানে প্রত্যেকে ১টি করে উইকেট লাভ করেন।
১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ব্র্যান্ডন কিংয়ের ২০ বলে ১৬ রান এবং শেষদিকে শিমরন হেটমায়ারের ১৯ বলে ৩২ রানের ইনিংসে ভর করে জয়ের ভিত শক্ত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে রান তাড়ার মূল নায়ক ছিলেন শেরফানে রাদারফোর্ড ও অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল। রাদারফোর্ড ৪০ বলে ৩টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে দৃষ্টিনন্দন ৫৪ রানের একটি অর্ধশতক হাঁকান। পাওয়েলও তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে খেলেন ২৭ বলে ৩৩ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সমীকরণ কিছুটা কঠিন হয়ে উঠলেও অভিজ্ঞ জেসন হোল্ডার মাত্র ৫ বলে ৩টি বিশাল ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ২১ রান করে ২ বল বাকি থাকতেই দলের জয় নিশ্চিত করেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে বল হাতে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা মাত্র ১৭ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন। এছাড়া মহেশ থিকশানা ২৬ রানে এবং দুশমন্থ চামিরা ৬৪ রানে ১টি করে উইকেট পান। চামিরার করা শেষদিকের খরুচে ওভারই মূলত ম্যাচটি শ্রীলঙ্কার হাত থেকে ছিটকে দেয়।
