প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হতেই নিজেদের জয়ের বিষয়ে জোরালো দাবি তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির নেতাদের মতে, ১৫২টি আসনে ভোট হয়ে যাওয়ার পরেই তারা সরকার গঠনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম দফাতেই অন্তত ১২৫টি আসন তৃণমূলের ঝুলিতে যেতে পারে, যা বেড়ে ১৩৫-এও পৌঁছাতে পারে।
ভোটের হার এবং তার প্রভাব নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে, তখন তৃণমূল নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, দ্বিতীয় দফার ভোটে দক্ষিণবঙ্গের ‘দুর্গ’ এলাকাগুলি যুক্ত হলে বিজেপির পক্ষে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এবং রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু দাবি করেন, তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ীই ভোট হয়েছে। কুণাল ঘোষ বলেন, খুব কম হিসাব করলেও আমরা ১২৫টি আসনে জিতব, যা ১৩৫ পর্যন্ত যেতে পারে। পাশাপাশি তিনি আরও দাবি করেন, নন্দীগ্রামে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পরাজয় প্রায় নিশ্চিত। এমনকি ভবানীপুরেও তিনি জিততে পারবেন না বলেও মন্তব্য করেন কুণাল। উল্লেখযোগ্যভাবে, শুভেন্দুও একই দিনে দাবি করেছেন বিজেপি ১২৫টি আসন পাবে।
এদিন বিকেলে কলকাতার বৌবাজার এলাকায় তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে সভা করেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি বলেন, মানুষের মনোভাব বুঝে বলছি, আমরা ইতিমধ্যেই এগিয়ে আছি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ বার ভোটদানে মানুষের অংশগ্রহণ বেড়েছে, কারণ অনেকেই ঝুঁকি নিতে চাননি। ভোটার তালিকা থেকে বহু নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে তিনি সুষ্ঠু গণনারও দাবি জানান।
তৃণমূলের দাবি, বিপুল ভোটদানের পিছনে রয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে মানুষের ক্ষোভ। কুণাল ঘোষের বক্তব্য, মৃত ও স্থানান্তরিতদের নাম বাদ দেওয়ার পাশাপাশি বহু বৈধ ভোটারও তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। ফলে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁরা প্রতিবাদস্বরূপ ভোট দিয়েছেন। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের অংশগ্রহণ বেশি ছিল, যা তৃণমূলের পক্ষে গেছে বলে দাবি দলের।
অন্যদিকে, বেশি ভোট পড়া মানেই সাধারণত সরকারবিরোধী মনোভাব এই প্রচলিত ধারণাকে খণ্ডন করে ব্রাত্য বসু বিহারের উদাহরণ টানেন। তার বক্তব্য, সেখানে একই পরিস্থিতিতে বিপুল ভোট পড়লেও শাসক দলই পুনরায় ক্ষমতায় ফিরেছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি মনে করেন, পশ্চিমবঙ্গেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থবারের জন্য সরকার গড়বেন।
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের দাবি, তাদের পূর্ব নির্ধারিত অঙ্ক অনুযায়ীই ভোট হয়েছে এবং ফলাফলে দলটির ভোটের শতাংশ ও আসন দুই-ই বাড়বে। একই সুর শোনা গেছে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলাতেও।
