আজ সোমবার হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে তীব্র সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে যে প্রণালীর দক্ষিণ প্রান্তে জাস্ক বন্দরের কাছে একটি মার্কিন নৌ-ফ্রিগেটকে ইরানের নৌবাহিনীর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ার পর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে এবং জাহাজটি পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা CENTCOM জানিয়েছে, কোনো মার্কিন জাহাজে আঘাত লাগেনি এবং ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র কাছেও পৌঁছাতে পারেনি।
বরং CENTCOM দাবি করেছে যে মার্কিন নৌবাহিনীর একাধিক গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার সফলভাবে হরমুজ প্রণালী পার হয়ে আরব উপসাগরে অবস্থান করছে এবং দুটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজও নিরাপদে প্রণালী পেরিয়ে গেছে।
এই ঘটনার শিকড় আরও গভীরে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা চালায় এবং সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হন। এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করে এবং যেকোনো বিদেশি জাহাজে হামলার হুমকি দেয়।
বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে, ফলে এর অবরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র “প্রজেক্ট ফ্রিডম” নামে একটি অভিযান পরিচালনা করছে, যার উদ্দেশ্য বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় সচল করা। ইরান এই উদ্যোগকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে এবং মার্কিন বাহিনীকে প্রণালীতে না ঢুকতে সতর্ক করেছে।
দেশটির সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণে এবং যেকোনো যাতায়াতের আগে ইরানি কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করা বাধ্যতামূলক।
এর পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ADNOC-এর একটি ট্যাংকার প্রণালী পার হওয়ার সময় দুটি ড্রোনের আঘাতের শিকার হয়েছে বলে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, যদিও কোনো হতাহত হয়নি। একই দিনে আমিরাতে যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করা এই মুহূর্তে কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা যে দ্রুত বাড়ছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
