সারাদেশে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে হামের প্রাদুর্ভাব। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ১১ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে ১০ মে রবিবার পাঠানো সর্বশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন করে মারা যাওয়া এই শিশুদের মধ্যে ৪ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল এবং বাকি ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। এই নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ মিলিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ৪০৯ জন শিশুর।
বিভাগওয়ারী তথ্যে দেখা যায়, গত এক দিনে হামে প্রাণ হারানো চার শিশুর মধ্যে তিনজনই ঢাকা বিভাগের এবং একজন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা।
অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে যে সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ৩ জন ঢাকার এবং সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জন করে শিশু মারা গেছে।
সংক্রমণের চিত্রও বেশ আশঙ্কাজনক; সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১,৫০৩ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ লক্ষ্য করা গেছে। তাদের মধ্যে ১,২৭৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যাদের বড় একটি অংশ অর্থাৎ ৪৯৬ জনই ঢাকা বিভাগের। এছাড়া নতুন করে আরও ২০৫ শিশুর শরীরে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৬,৮১৯ জন এবং সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯,১৫৯ জনে। এ সময়ের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন ৩৪,৯০৯ জন শিশু, যার মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩০,৮৬২ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মোট ৪০৯ জন মৃতের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছেন ৬৫ জন এবং বাকি ৩৪৪ জন মারা গেছেন হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে।
উদ্ভূত এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
প্রতিদিন সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় শিশুদের সুরক্ষায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাম-রুবেলার টিকা নিশ্চিত করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে অধিদপ্তর।
