পিএসএল ২০২৬-এর ৩৩তম ম্যাচে করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল হায়দরাবাদ কিংস এবং মুলতান সুলতানস। হাই-স্কোরিং এই ম্যাচে মুলতান সুলতানের ২১৪ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হায়দরাবাদ কিংস ৭ উইকেটের এক অবিস্মরণীয় জয় তুলে নেয়। ৪৫ বলে ১০০ রানের হার না মানা বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় (ম্যাচসেরা) নির্বাচিত হন উসমান খান।
ম্যাচের শুরুতে হায়দরাবাদ কিংসের অধিনায়ক মারনাস ল্যাবুশেন টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন। ব্যাটিং করতে নেমে মুলতান সুলতানস নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২১৩ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। ওপেনার স্টিভ স্মিথ ৫০ বলে ১০৬ রানের একটি চোখধাঁধানো ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ১২টি চার ও ৬টি ছক্কার মার। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন সাহেবজাদা ফারহান, যিনি ৪৩ বলে ৫টি ছক্কা ও ৪টি চারের সাহায্যে ৬৬ রান করেন। লখনউয়ের বোলারদের মধ্যে আকিফ জাভেদ ৩০ রানে ৩টি উইকেট শিকার করে মুলতানের রানের গতি কিছুটা টেনে ধরার চেষ্টা করেন।
২১৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হায়দরাবাদ কিংসের শুরুটা খুব একটা ভালো ছিল না। ওপেনার মাজ সাদাকাত (৭) এবং কুসল পেরেরা (০) দ্রুত বিদায় নিলেও অধিনায়ক মারনাস ল্যাবুশেন দলের হাল ধরেন। তিনি ৪১ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ৬১ রানের একটি স্থিতিশীল ইনিংস খেলেন। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন চার নম্বরে নামা উসমান খান। শুরু থেকেই মুলতানের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে তিনি মাঠের চারদিকে ছক্কার বৃষ্টি বইয়ে দেন।
উসমান খান মাত্র ৪৫ বল মোকাবিলা করে ১০০ রান পূর্ণ করেন, যেখানে ছিল ৫টি চার এবং রেকর্ড ১০টি বিশাল ছক্কা। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ২ রান করে অপরাজিত থাকলেও উসমানের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের কারণে হায়দরাবাদ ২ ওভার হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। মুলতান সুলতানসের বোলারদের মধ্যে মুহাম্মদ ইসমাইল ৩টি উইকেট নিলেও তা দলকে হার থেকে বাঁচাতে যথেষ্ট ছিল না। মুলতানের বিশাল সংগ্রহকে মামুলি বানিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় হায়দরাবাদ।
পুরো ম্যাচজুড়ে দুই দলের ব্যাটারদের দাপট থাকলেও শেষ হাসি হাসে হায়দরাবাদ কিংস। স্টিভ স্মিথের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ম্লান হয়ে যায় উসমান খানের পাওয়ার হিটিংয়ের কাছে। এই জয়ের ফলে পিএসএলের পয়েন্ট টেবিলে হায়দরাবাদ কিংস তাদের অবস্থান আরও মজবুত করল। করাচির দর্শকরা এক ম্যাচে দুই দলের পক্ষ থেকে দুটি দুর্দান্ত সেঞ্চুরি দেখার বিরল অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়ে থাকল।
